রাজধানীর খিলগাঁও থানার মেরাদিয়া এলাকা থেকে ফেনসিডিলসহ গ্রেফতারের পর এক যুবকের পরিচয় নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছিল। রাফি সাদমান নামে ওই যুবক নিজেকে ৩৬তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হিসেবে পরিচয় দেয়। তবে দিনভর অনুসন্ধানের পর জানা যায়, সে আসলে ৩৫তম বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছিল। এদিকে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছে, রাফি সাদমান কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন।
পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খিলগাঁও থানার মেরাদিয়া এলাকা থেকে দুই যুবককে ফেনসিডিলসহ আটক করে স্থানীয় লোকজন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। তাদের কাছ থেকে ১০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। রাফি সাদমানের সঙ্গে অন্য যে একজনকে আটক করা হয় তার নাম রাকিব। সে পেশাদার ফেনসিডিল বিক্রেতা।
স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে খিলগাঁও থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, রাফি সাদমান দুই বোতল ফেনসিডিল কিনেছিল। এসময় লোকজন তাকে এবং বিক্রেতা রাকিবকে আটক করে। রাকিবের কাছ থেকে বাকি ৮ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, স্থানীয় লোকজন ফেনসিডিলসহ তাদের ধরে দিয়েছে। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পুলিশের হাতে ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হওয়ার খবরে ৩৬তম বিসিএসে যারা পুলিশ ক্যাডারে মনোনীত হয়েছেন, তাদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। পুলিশে যোগদানের আগ মুহূর্তে এই খবরে কেউ কেউ দুঃখ প্রকাশও করেন। বিষয়টি নিয়ে থানা-পুলিশও নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে দিনটি পার করে। আটক হওয়া রাফি সাদমান নানারকম বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় তার সত্যতা জানতে বেগ পেতে হয় পুলিশ কর্মকর্তাদের। ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য তার পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়।
ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাদিয়া জুঁই বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তার বাবার কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি যে, সে ৩৬তম পুলিশ ক্যাডারে মনোনীত হয়নি। তার বাবা আমাদের কাছে তার মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থার কথা জানিয়েছে। সে নিজেও ফেনসিডিল কেনার কথা অস্বীকার করেছে। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখছি। যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’