২০১৫ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ এমসিকিউ প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। বাকি ৫০ ভাগ ছিল সৃজনশীল তথা যোগ্যতাভিত্তিক (লিখিত)।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো। এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে এমসিকিউ বাদ দেওয়ার কৌশল নেওয়া হবে।
গত ১০ এপ্রিল ঢাকায় জাতীয় কর্মশালায় পরিমার্জিত এই প্রশ্নপত্রের কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়। এর পর মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি গত বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) তা আদেশ আকারে জারি করে।
জারি করা পরিমার্জিত কাঠামো অনুযায়ী এবার থেকে প্রতিটি বিষয়ে এমসিকিউ প্রশ্ন বাদ দিয়ে সেখানে নতুন ধারার প্রশ্ন যুক্ত করে প্রাথমিক সমাপনীর জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে। তবে পরীক্ষার সময় আগের মতো আড়াই ঘণ্টাই থাকবে।
প্রাথমিক সমাপনীতে সৃজনশীল বা যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নের হার গত কয়েক বছর ধরেই ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রতি বিষয়ে ৬৫ শতাংশ এবং ২০১৭ সালে ৮০ শতাংশ প্রশ্ন ছিল যোগ্যতাভিত্তিক।
২০০৯ সালে সারাদেশে একসঙ্গে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরুর পর ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো ১০ শতাংশ সৃজনশীল প্রশ্ন সংযোজন করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে তা বাড়িয়ে ২০১৩ সালে ২৫ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৩৫ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ৫০ শতাংশ সৃজনশীল প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া হয়।
যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দুই ঘণ্টায় শিক্ষার্থীরা শেষ করতে না পারায় ২০১৩ সালে সময় ৩০ মিনিট বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়।
প্রসঙ্গত, দেশে এমসিকিউ প্রশ্নপত্র চালু হয় ১৯৯২ সালে এসএসসি পরীক্ষায়। ওই সময় মোট ৫০টি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো পরীক্ষার্থীদের। প্রতিটির জন্য বরাদ্দ ছিল এক নম্বর।