আস্তে কথা বলতে বলার জের

বখাটেদের মারধরের শিকার দেলোয়ার ও তার পরিবারের সদস্যরা

প্রতিবেশীকে আস্তে কথা বলতে বলায় এলাকার বখাটেদের ডেকে এনে একটি পরিবারের চার নারীসহ পাঁচজনকে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তা এখনও মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি।

রাজধানীর তেজাগাঁওয়ের শিল্পাঞ্চল থানার উত্তর বেগুনবাড়ির ৪৭/বি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। বখাটেদের মারধরে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৩), দেলোয়ারের স্ত্রী মমতাজ বেগম (৩০), তার মেয়ে কাজল (১৫) ও বোন মনি আকতার (২৫), মা আজিম বেগম (৬০)সহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

দেলোয়ার হোসেন এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়েছে পুলিশ। আটকরা ব্যক্তিরা হলেন— শাহ আলম (৩০), বিল্লাল হোসেন (২০) ও আব্দুল মোল্লা (১৮)। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করা জন্য দেলোয়ারের ওপরে চাপ প্রয়োগ করছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

হামলার শিকার আহত দেলোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দু’মাস ধরে আমি পরিবার নিয়ে শিল্পাঞ্চল এলাকার ৪৭/বি বাসায় ভাড়া থাকি। শুক্রবার সকালে আমি ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার ও চেচামেচিতে আমার ঘুম ভেঙে যায়।’

তিনি জানান, ঘুম থেকে উঠে পাশের বাসার আমেনা বেগমের পরিবারকে আস্তে কথা বলতে অনুরোধ করেন। এ নিয়ে তখন ওই পরিবারের সদেস্যদের সঙ্গে তার   বাকবিতণ্ডা হয়। এর পাঁচ মিনিট পর ১২/১৩ জন তরুণ বাসায় এসে দেলোয়ারসহ তার পরিবারের সবাইকে মারধর করে।

দেলোয়ার বলেন, ‘কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা  বাসার জিনিসপত্র দিয়ে আমাদের মারধর শুরু করে। এতে আমার স্ত্রী, বোনের মাথা ফেটে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের গায়েও হাত দিয়েছে তারা। মেয়েকে পিটিয়েছে। এঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি। কিন্তু ঘটনার পর এলাকার লোকজন এসে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছে।’ দেলোয়ার বলেন, ‘হামলাকারীরা পার্টি করে। তাদের নাকি অনেক ক্ষমতা। মামলা করলে আমার অসুবিধা হবে, সবাই এভাবে বলতেছে।’

যারা বাসায় হামলা চালিয়ে মারধর করেছে তারা এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। তারা যাবার সময় দেলোয়ারের একটি মোবাইল, মেয়ে ও স্ত্রীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও নগদ ২১ হাজার টাকা নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন দেলোয়ার।
এবিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দু’পক্ষই থানায় আছে। তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে।’