জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ আলোচনাসভায় ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন জ্ঞানের চর্চা কমে গেছে। মাটির তলে যেমন পানির স্তর কমে যাচ্ছে, বায়ুর মান নিম্নগামী, আমরা খবর রাখি না। জ্ঞানচর্চার অবস্থাও সেই রকমেরই।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে শ্রেণিব্যবস্থার যে পরিবর্তন আসার কথা ছিল সেটি আসেনি। অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটছে মেহনতী মানুষের শ্রমে ও ঘামে এবং পুঁজিবাদী কায়দায়, তাই শ্রেণিবৈষম্য কমেনি, বরং বেড়েছে এবং বাড়ছে।’
এমেরিটাস অধ্যাপক আরও বলেন, ‘শ্রেণি প্রশ্নের মীমাংসাটাই সর্বাধিক জরুরি, কিন্তু তার জন্য জাতি প্রশ্নেরও মীমাংসা চাই। কেননা জাতিগত ভেদাভেদটা জিইয়ে রেখে শাসকশ্রেণি চেষ্টা করে শ্রেণিচেতনাকে ভোতা করে দিতে। স্বাধীনতার পর জাতীয়তাবাদীরা কেউই শ্রেণিবিভাজনকে ভাঙতে চাননি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আশা জেগেছিল যে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষ মুক্তি পাবে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ আমরা পাইনি। কারণ যে ঐক্য, উদ্দীপনা, উদ্ভাবনা ও অঙ্গীকার মুক্তিযুদ্ধের সময় দেখা গিয়েছিল সেটা অক্ষুণ্ন থাকেনি।’
বরেণ্য এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর অর্থনীতিকে সমাজতন্ত্র অভিমুখী চালনা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, শক্তিশালী একটি প্ল্যানিং কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তার সদস্যরা অনেক পরিশ্রম ও গবেষণা করেছেন, কিন্তু তাদের প্রস্তাবগুলো কার্যকর হয়নি। উল্টো প্ল্যানিং কমিশন নিজেই ভেঙে গেছে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. অজয় রায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. আহরার আহমদ এবং অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর পরিচিতি পাঠ করেন ঢাবির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।