শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা গ্রাহকরা। তারা জানান, যারা টাকা জমা দিয়েছেন তাদের অধিকাংশই গাড়ি কিনে উবার বা ভাড়ায় চালিয়ে সংসারে সচ্ছলতা আনতে চেয়েছিলেন। অনেকে জমানো টাকার সঙ্গে সুদে টাকা এনে দিশা গ্রুপে জমা দিয়েছিলেন। গাড়ি ও টাকা দুটোই হারিয়েই পথে বসতে চলেছে অন্তত ১০০ পরিবার।
সরেজমিন দেখা গেছে, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী সড়কে প্রিয়াঙ্গন আবাসিক এলাকা ২৫/সি বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকা দিশা গ্রুপের অফিসটি বন্ধ। এমনকি বাড়ির সামনে থাকা সাইনবোর্ডও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতার, বিচার ও জামানতের টাকা ফেরত চেয়ে দিশা গ্রুপের বন্ধ অফিসের সামনে অবস্থান নিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
মোতালেব বলেন, ‘ভালো একটা গাড়ি পেলে ভাড়া ভালো পাওয়া যাবে—এই আশায় টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পথের ফকির। আগের গাড়ি বিক্রির টাকা, জমানো ও বাকি টাকাটা এনেছিলাম ঋণ করে। এখন কীভাবে সংসার চালাবো? আর কীভাবে ঋণের টাকা দেবো?’
মতলেবের মতো এরশাদ দিয়েছেন ৭ লাখ। তিনি বলেন, ‘আমার বাসা উত্তরাতে। সেখানে গাড়ি শোরুমগুলোয় দিশা গ্রুপের লোকজন মার্কেটিং চালাতো। তারাই ঋণ দিয়ে গাড়ি কিনে দেওয়ার কথা জানায়। আমি একথা আমার পরিচিত কয়েকজনকে জানিয়েছি।’
এদের মতো শহীদুল ইসলাম ৯ লাখ, সজিব ৫ লাখ, মো. সিদ্দিক ৫ লাখ দিয়ে টাকা দিয়েছেন। দিশা গ্রুপের ওই অফিসের সামনে এমন অন্তত ২০ জন পাওয়া গেছে, যারা গাড়ি কিনতে টাকা দিয়েছিলেন। অফিস বন্ধের খবর পেয়ে তারা এসেছেন।
শেখ হাসান, সাইফুল ইসলাম বাবু, ইয়ামিন খান ও মোতালেব ভুক্তভোগীদের পক্ষে থানায় অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা নিয়েছে পুলিশ। তবে মামলা করতেও বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
দিশা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল হক বিশ্বাস, তার স্ত্রী বিলকিস বিশ্বাস, তাদের ছেলে শাওন হক বিশ্বাসসহ অফিসের ১২ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের একাংশের দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস কেনার জন্য দিশা গ্রুপ কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন অংকের টাকা জমা দেন। টাকা নেওয়ার পর প্রত্যেককে একাধিক তারিখ দেওয়ার পরও গাড়ি কিনে না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছে।
মামলার চার বাদীর একজন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ হাসান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ৮৪ হাজার টাকা দিয়েছিলাম মোটরসাইকেল কিনতে। আমাকে মোটরসাইকেল দেওয়ার কথা ২৩ এপ্রিল। সেদিন এসে কাউকে পাইনি। তারা লাপাত্তা। এখন এই টাকা কীভাবে ফেরত পাবো বুঝতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতো অনেক লোক টাকা দিয়েছে। তারা সব হারিয়ে পথে বসার অবস্থা।’
এ প্রসঙ্গে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিমুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্রাহকদের টাকা মেরে দেওয়ার ঘটনায় শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান চলছে। তাদের ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’