ঢামেক হিমাগারে শিশুর মরদেহ কুরে খেলো ইঁদুর!

 

মৃত সোহান (ছবি- সংগৃহীত)


‘পোড়া ঘায়ের যন্ত্রণা নিয়া অনেক কষ্ট পেয়ে আমার ছেলেটা মারা গেলো, কিন্তু তাও রক্ষা পেলো না। হাসপাতালের হিমাগারে কয়েক ঘণ্টা রাখার পর দেখি মরা ছেলেটারে ইঁদুর খাইছে। মারা যাওয়ার পরও আমার ছেলেটা রক্ষা পাইলো না!’

বিলাপ করে কথাগুলো বলছিলেন মৃত দেড় বছরের শিশু সোহানের বাবা সোহাগ হাওলাদার।

বৃহস্পতিবার (৩ মে) সকালে মারা যাওয়ার পর সোহানের মরদেহ সংরক্ষণের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গের হিমাগারে রাখা হয়েছিল। বিকালে মরদেহ বের করে দেখা যায়, শিশুটির বাম পাশে গালে বেশ কিছু অংশে মাংস নেই, ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরছে।

ঢামেক হাসপাতাল মর্গের স্টাফরা জানান, হয়তো ইঁদুর বা বেজি মরদেহের কিছু অংশ খেয়ে ফেলেছে।

গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর নর্দায় বাসায় রান্না করা গরম ডালের উপর পরে গিয়ে দগ্ধ হয় শিশু সোহান। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। ৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে মারা যায় সে। তার শরীরের ১৬ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

মৃত সোহানের বাবা সোহাগ হাওলাদার একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করেন। তার মা মিম আকতার গৃহিণী। সোহান এই দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া এলাকায়। গুলশান থানার নর্দা এলাকায় ভাড়া থাকেন তারা।

সোহানের মরদেহ সংরক্ষণের জন্য বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢামেক হাসপাতাল মর্গের হিমাগারে রাখা হয়েছিল। এরপর গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আলম হাসপাতালে মরদেহ দেখতে আসলে বিকাল ৫টার দিকে।তখন হাসপাতাল মর্গের হিমাগার খুলে মরদেহ বের করে দেখা যায়, শিশুটির বাম পাশে গালে বেশ কিছু অংশে মাংস ও চামড়া নেই, সেখান থেকে রক্ত ঝরছে।

সোহাগ হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার সন্তানের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে হিমাগারে রাখা হলো, কিন্তু সেখানে কীভাবে ইঁদুর বা বেজি ঢুকলো? হয়তো এই মর্গের দায়িত্বে থাকা স্টাফরা এগুলো চেক করেন না।’

ডিএমপি’র গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ২৬ তারিখে শিশুটি গরম ডালে পড়ে গিয়ে দগ্ধ হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটি মারা যাওয়ার পর তার মরদেহ হাসপাতাল মর্গের হিমাগারে রাখা হয়। বিকাল ৫টার দিকে হিমাগার থেকে মরদেহটি বের করা হলে দেখা যায়, বাম পাশে গালের কিছু অংশ নেই, সেখান থেকে রক্ত বের হচ্ছে।’

এ কথা শুনে ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং মৃত শিশুটির পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খুবই বেদনাদায়ক, কেন শিশুটির গালে ক্ষত হলো? এই ঘটনায় তদন্ত করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ মর্গের দায়িত্বরত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেন তিনি।

ঢামেক হাসপাতালের ক্যাম্প পুলিশ ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, মরদেহ রাখার ফ্রিজে পেছনের দিকে কোনও ছিদ্র থাকতে পারে, বা দরজাও খোলা থাকতে পারে, যে কারণে ভেতরে ইঁদুর বা বেজি ঢুকে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।’

গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আলম জানান, মৃত সোহানের বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া হস্তান্তর করা হয়েছে।