গণতন্ত্র বিএনপিতেও নেই: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

 

জাফরুল্লাহ চৌধুরী (ছবি- সংগৃহীত)

গণতন্ত্র বিএনপিতেও নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘যদিও আজ বিএনপি একটি কঠিন সময় পার করছে। গণতন্ত্রকে মার্যাদা না দেওয়ার কারণে তাদের এই দুরবস্থা।’

শুক্রবার (০৪ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে ‘আইনের শাসন ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দেশের গণতন্ত্র তো ভেজাল গণতন্ত্র। যেখানে গণতন্ত্র ভেজাল সেখানে আইনের শাসন ঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে না। আমাদের এখানে বিবেচনা করা প্রয়োজন,এই গণতন্ত্র ভেজাল করার জন্য কে কী ভূমিকা পালন করেছেন? আজকের এই ভেজাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় খায়রুল হকের (সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক) ভূমিকা কত? তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে তিনি একটি রায় লিখলেন, এরপর ১৭-১৮ মাস অপেক্ষা করে রায় বদলালেন। সুতরাং ভেজাল গণতন্ত্রের শুরু তো সেখান থেকেই।’

ছাত্রলীগের নেতৃত্ব বাছাইয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্য প্রসঙ্গে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘চলমান অবস্থায় আরেকটি বিবেচ্য বিষয় হলো প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্য। গণতন্ত্র অবশ্য বিএনপিতেও নেই। যদিও আজকে বিএনপি একটি কঠিন সময় পার করছে। এটা গণতন্ত্রকে মার্যাদা না দেওয়ার কারণে তাদের এই দুরবস্থা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি ছাত্রলীগকে সাচ্চা ছাত্রলীগ বানাচ্ছেন। পাঁচটি দফা করেছেন। এবার মনে হয় নির্বাচন হবে না। ওখানে সিলেকশন হবে। তারা যে পাঁচ দফা করেছেন তা আমি পড়ার অনুরোধ করি। ১৯৩০-এর দশকে হিটলারও এমন সাচ্চা দফা করেছিলেন। সাচ্চা ছাত্রলীগ করবেন, ঠিক আছে। কিন্তু সাচ্চা আওয়ামী লীগ কীভাবে করবেন? সেগুলো আপনাদের বিবেচনা করতে হবে।’

গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘একজনের ইশারা ছাড়া বাংলাদেশের একটি পাতাও নড়ে না। আমরা এখন এই অবস্থার মধ্যে আছি। আর আইনের শাসন তো সুদূর পরাহত।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘সারাদেশে আইনের শাসন বলতে তিনটি বিষয়কে বোঝানো হয়। এক. দেশ চলবে আইন অনুসারে এবং আইন প্রয়োগ হবে সমানভাবে। কিন্তু আমরা যে আইনের শাসন দেখি সেখানে গুম-ক্রস ফায়ার এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক লুটেরও বিচার দেখি না। দুই. জনস্বার্থে আইন করতে হবে। কিন্তু আইসিটি অ্যাক্ট, স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট কীভাবে হয়? এবং তিন. জনগণের সম্মতিতে আইন প্রণয়ন করতে হবে। সেজন্যই আমরা সামরিক সরকারের সামরিক বিধিমালাকে আইন বলি না। কারণ, তারা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি নন।’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘‘একটি দল সবচেয়ে বেশি স্বৈরতান্ত্রিক শাসন করতে পারছে তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো আমাদের পেশাজীবী সংগঠনের লেজুড়বৃত্তি। এ কারণে এবং রাজনীতিতে অসততার কারণে এখন সমাজ সাংঘাতিকভাবে বিভাজিত। প্রত্যেকটি জায়গায় লেজুড়বৃত্তির ফলে যারা কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, তাদের আমরা সফলতা এনে দিচ্ছি।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘‘প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগের পর বিচার বিভাগ ইউটার্ন নেয়। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগ যে আলোর মুখ দেখেছিল তা ভূলুণ্ঠিত হতে চলেছে।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান, ঢাকা বারের সভাপতি গোলাম মোস্তফা খান, আব্দুল মতিন, সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ।