রবিবার (৬ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সম্মেলন কক্ষে ‘দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয় ও সম্পদের পারিবারিক দায়: নারীর ভূমিকা, ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা তিনি এসব কথা বলেন।
সভার মূল উদ্দেশ্য দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয় ও সম্পদের পারিবারিক দায় বিশেষ করে স্ত্রী হিসেবে নারীর ওপর ঝুঁকির বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থ-সামাজিক কাঠামোগত প্রভাব এবং এর প্রেক্ষিতে উত্তরণের উপায় নির্ধারণে সহায়ক আলোচনা।
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুর্নীতির ১১৮ মামলায় পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সাজার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে দুর্নীতি দমন কমিশনকে। স্বামীর দুর্নীতির বিষয় জানেন না এমন নারীর সাজা কীভাবে দেওয়া সম্ভব? কিংবা তাদের সাজা থেকে নাজাত দেওয়া বা দায়মুক্তির বিষয়ে আইনের সংশোধন-সংযোজন করা যায় কিনা তা নিয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করবে দুদক।’
তিনি বলেন, ’৬০-৭০ লাখ টাকার দুর্নীতির মামলায় কয়েক বছর আগে এক মেডিক্যাল কলেজ পড়ুয়া নারী দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি আমাকে ভাবিয়ে তোলে। তিনি জানেনই না স্বামীর সঙ্গে তিনিও দুর্নীতির মামলায় সাজা পেতে যাচ্ছেন। ওই বিষয়টি খুবই চিন্তার বিষয়। এ রকম ১১৮টি দুর্নীতির মামলায় নারীর সাজা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই নেতিবাচক।’
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘একজন নারী তার স্বামীর দুর্নীতির সম্পর্কে জানেন না। অথচ স্বামী তাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। স্ত্রীর নামে স্বামীর অবৈধ অর্জিত সম্পদ ব্যাংকে যাচ্ছে কিংবা কোনোভাবে লেনদেন হচ্ছে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয় সম্পর্কে ওই নারীর না জানাটাও দুঃখজনক।’
অনিচ্ছায় দুর্নীতির মামলায় জড়ানো নারীদের সাজা থেকে দায়মুক্ত করতে কোনও পথ বের করা যায় কিনা তা নিয়ে আইনজীবী ও আইনজ্ঞদের সঙ্গেও পরামর্শ করা হবে বলে জানান তিনি।
সব নারীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত স্বামী সম্পর্কে সচেতন হোন। আপনার স্বামীর অর্জিত সম্পদ সম্পর্কে সচেতন হোন। ব্যাংকের কোনও কাগজে কিংবা ব্লাংক চেকে সই করার আগে ভালো করে জেনে নিন, কোথায় সই করছেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘সমাজে প্রতিষ্ঠিত ও সরকারি আমলা-কর্মকর্তাদের নাম বেশি আসছে দুর্নীতির মামলায়। যেসব দুর্নীতির মামলায় নারীর নাম জানা যাচ্ছে, তাদের স্বামীরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং নারীরা কি এতো অবলা? আমার মা ফাইভ পাস ছিলেন। কিন্তু তার কারণে আমার বাবার সাহস ছিল না দুর্নীতি করার।’
নারী নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বলেন, ‘সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নেই। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের দাম দেওয়া হচ্ছে না। সমান অধিকার তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া ও নির্যাতন করা হচ্ছে নারীদের। যে কারণে দুর্নীতি বাড়ছে।’
টিআইবি'র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আইনের সংশোধন আনা যেতে পারে। দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা জরুরি। দুদককে আরও শক্তশালী ভূমিকা পালন করা দরকার। নারীরা অবলা নন। নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর মূল্যায়ণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার পরিবেশ তৈরি করা গেলে কমে যাবে দুর্নীতি।’
টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারী প্রগতী সংঘ-এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির প্রমুখ।