রাজিবের ক্ষতিপূরণের আদেশ স্থগিত চেয়ে বিআরটিসির আপিল আবেদন

রাজিব হাসান

রাজধানীতে দুই বাসের চাপায় হাত হারানো তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজিব হাসান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার ঘটনায় তার দুই ভাইকে এককোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বিআরটিসি এবং স্বজন পরিবহনের মালিককে আদেশ দেন হাইকোর্ট। সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন (লিভ টু আপিল) করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।

বুধবার (৯ মে) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন বিআরটিসি’র আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনীরুজ্জামান। আবেদনটি আগামী রবিবার (১৩ মে) সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে শুনানি হতে পারে বলেও তিনি জানান।

ব্যারিস্টার মুনীরুজ্জামান বলেন, ‘হাইকোর্ট থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়া হয়েছে। সেই আদেশে আমাদেরকে (বিআরটিসি) ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়। কিন্তু কার কতটুকু দায় তা পরিমাপ না করে, কিংবা তদন্ত না করে ক্ষতিপূরণের এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হয়। এছাড়া, বিআরটিসি সরকারের টাকায় চলে। তারা কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেবে? এসব কারণে হাইকোর্টের আদেশের বিআরটিসির অংশ স্থগিত চেয়ে আমরা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেছি।

এর আগে গত ৮ মে রাজিব হাসানের দুই ভাইকে এককোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন আদালত। বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত এই আদেশের পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৫ জুন নির্ধারণ করেন। 

আদালতে রাজিবের পক্ষের শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

পরে তিনি জানান, বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে একমাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্ধেক টাকা রাজিবের দুই ভাইকে পরিশোধ করে আদালতকে জানাতে হবে। বাকি ৫০ লাখ টাকা দিতে ২৫ জুন পরবর্তী আদেশ আসতে পারে।

তিনি আরও জানান, এই এককোটি টাকা রাখার জন্য যৌথ অ্যাকাউন্ট খোলা হবে মতিঝিলের সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায়। যাদের যৌথ অ্যাকাউন্টে এই ক্ষতিপূরণের টাকা রাখা হবে তারা হলেন— রাজিবের খালা জাহানারা বেগম ও রাজিবের গ্রামের বাড়ি দাসপাড়া এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের ছেলে কাস্টমস কর্মকর্তা ওমর ফারুক।

প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল দুই বাসচালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর শিকার হন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজিব হাসান। ওই ঘটনায় দুই বাসের চাপে হাত কাটা পড়ে তার। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর গত ৪ এপ্রিল রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।