মঙ্গল ‘ছিনতাইকারী’, বিশ্বাস করতে পারছে না পরিবার

ঢামেকছিনতাইয়ের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর নিহত মঙ্গল (২৫) ছিনতাইকারী তা বিশ্বাস করতে পারছে না তার পরিবার। পেশায় অটোচালক মঙ্গলের বিরুদ্ধে এর আগে কখনও এমন অভিযোগ আর উঠেনি।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মঙ্গলের লাশ ‍নিতে এসে বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা বলেন তার মামা আবুল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমার বড়বোন শিরিন বেগমের একমাত্র সন্তান মঙ্গল। তার বাবার নাম জাকির হোসেন। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নারেকেল বাড়ির চর গ্রামে তাদের বাড়ি। মঙ্গলের শৈশবেই তার মা শিরিন মারা যায়। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা সংসার করেন। তিনি কখনও মঙ্গলের খোঁজ রাখেননি। ঢাকার মগবাজারের মীরবাগ এলাকায় নানা-নানীর কাছে থাকতো মঙ্গল। ওই এলাকাতে অটোচালাতো সে।’

আবুল হোসেন বলেন, ‘আমি ট্রান্সকম গ্রুপের গাড়ি চালক। বুধবার বিকালে আমি জানতে পারি মঙ্গলকে পুলিশে গ্রেফতার করেছে। এরপর এসে শুনি সে মারা গেছে।’

মঙ্গলের মামার সঙ্গে যখন মর্গে কথা হয়, তখন রমনা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানসহ দুজন কনস্টেবল ছিলেন সেখানে। তারা লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার তাড়া দিচ্ছিলেন মর্গের কর্মচারীদের। মঙ্গলের আত্মীয় স্বজনরা হাসপাতাল এলাকায় থাকলেও তাদের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অস্বস্থিবোধ করতে দেখা গেছে। তার ছোটখালা বোরকা পরে মর্গের অদূরে মেডিক্যাল কলেজের সামনে দাড়িয়ে থাকলেও তিনি পরিচয় দিতে চাননি। বিকাল ৫ টার দিকে মঙ্গলের মামা আবুল হোসেন মর্গে এসে কাগজপত্রে নাম-ঠিকানা ও স্বাক্ষর করে লাশ চিহ্নিত করে অ্যাম্বুলেন্সে করে আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যান। এসময় কয়েকদফায় তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি আস্তে আস্তে উপরের কথাগুলো বলেন। সে সময় পুলিশ দেখে তিনি আবার থেমে যান।

মর্গের কর্মচারীরা মঙ্গলের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেওয়ার পর দ্রুত সেটি ঢামেক হাসপাতাল এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এর তিন থেকে চার মিনিট পর রমনা থানা পুলিশের পিকআপ ভ্যানে করে এসআই মিজান এবং অন্যান্য পুলিশ চলে যায়।

বুধবার সকালে মগবাজার চেয়ারম্যান গলিতে ছিনতাইয়ের অভিযোগে স্থানীয়রা মঙ্গলকে আটক করে মারধর করে। এরপর রমনা থানা পুলিশ তাকে আটক করে। আটক করার পর তাকে চিকিৎসার জন্য রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই ) বাতেন ও দীপঙ্কর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসা দিয়ে পুনরায় তাকে রমনা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় তার বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী সাখাওয়াত হোসেন এজাহার দায়েরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. ইহসানুল ফেরদৌস জানান, বুধবার (৯ মে) সকালে মগবাজার চেয়ারম্যান গলিতে ছিনতাইয়ের সময় জনতার গণপিটুনির শিকার হয় সে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাকে একটি ছোরাসহ আটক করে। তখন ওই ছিনতাইকারীকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়।

ইহসানুল ফেরদৌস আরও জানান, ছিনতাইয়ের শিকার শাখাওয়াতের মামলার অভিযোগ তৈরির সময় আটক যুবক থানার ভেতরে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে পুনরায় ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে বিকাল ৫ টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সকালে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তথ্য উপাত্ত হাসপাতালের কাগজপত্রেও রয়েছে। বিকালে তাকে মৃত্যু ঘোষণার পর ঢামেক হাসপাতাল জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এইচ এম তারেক জানান, ‘ওই যুবককে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য তার মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত যুবকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’

বৃহস্পতিবার বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘মঙ্গলের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’