নির্যাতন সইতে না পেরে নিজের গায়ে আগুন দেন রত্না

স্ত্রীকে নির্যাতনরান্না ভালো না হলে বা একটু দেরি হলেই রত্না বেগমকে (২৩) গালি-গালাজের পাশাপাশি মারধর করতো গৃহকর্ত্রী সুলতানা আরজু মুন্নি। প্রায় প্রতিদিনই চলতো এ ধরনের নির্যাতন। মুন্নির নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন গৃহকর্মী রত্মা। দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ মে) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ৩ /এ সড়কের একটি বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
গৃহকর্মী রত্নার বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার আসামি গৃহকর্ত্রী সুলতানা আরজু মুন্নিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রান্না খারাপ বা দেরি হওয়ার কারণে প্রায়ই গৃহকর্ত্রী রত্নাকে মারধর করতো। প্রতিদিনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রত্না নিজের গায়ে আগুন দেয়। দগ্ধ অবস্থায় তাকে মোহাম্মদপুরের সিটি হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তারের উপস্থিতিতে রত্নার জবানবন্দি রেকর্ড করেছিলাম।’

ওসি বলেন, ‘ ওই বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। রত্নার দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী আমরা বাসায় গিয়ে সিসিটিভি’র ফুটেজ চেক করি। এতে ঘটনার সত্যতা পাই। এরপর তার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার পর গৃহকর্ত্রী সুলতানা আরজু মুন্নিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

হাসপাতালে দেওয়া রত্মার জবানবন্দি সম্পর্কে সিটি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রশিদ মাহমুদ জানিয়েছেন, ‘সাত মাস যাবত ওই বাসায় কাজ করতেন রত্মা। ছয় মাস ধরেই বাড়ির লোকজন তার ওপরে শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছিল। গত ২৯ মে বিকালে রান্না খারাপ হওয়ার অজুহাতে রত্নাকে কাঠ দিয়ে পিটিয়ে আহত করে তার গৃহকর্ত্রী। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন রত্না।। পরে বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে মোহাম্মদপুর সিটি হসপিটালে নিয়ে আসেন। সেখানেই তিনি মারা যান।’

আগুনে তার শরীর শতভাগ পুড়ে গিয়েছিল বলে জানান চিকিৎসক রশিদ মাহমুদ। তিনি জানান, মৃত্যুর আগে রত্না তার ওপরে চালানো নির্যাতনের কথাগুলো বলে গেছেন।

সিটি হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর রত্নার মরদেহ সেখান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসা হয়। মরদেহটি নিয়ে আসেন ধানমন্ডি থানার এসআই  আহমদ আলী। তিনি জানান, নিহত রত্মার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানার চরসীতা গ্রামে।