ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত এই রেলওয়ে কর্মচারীর নাম জসিমউদ্দিন টালী। পঞ্চাশোর্ধ্ব এই মানুষটি কিশোরগঞ্জের সরারচর রেলওয়ের স্টেশনে টিওয়াইএ পদে কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জসিমউদ্দিন টালী প্রতিদিনের দায়িত্ব শেষে রাতে শুয়ে থাকেন সরারচর স্টেশনেরই একটি কক্ষে। আলাদা কোনও সংসার নেই তার। বিয়েও করেননি। তিন দশক ধরে এই রেল স্টেশনেই জীবন কাটছে তার।
জসিম উদ্দিন জানান, ১৯৮৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ে গার্ডশিপ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধাতালিকার সপ্তম স্থান অর্জন করেন তিনি। গার্ডশিপ ট্রেনিং পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ওই বছর ১৭ মার্চ চূড়ান্ত পরীক্ষায় মেধাতালিকায় প্রথম হন। গেজেটও প্রকাশ করা হয়। জসিম উদ্দিন গার্ড গ্রেড-২ পদে পদোন্নতির জন্য অপেক্ষায় থাকলেও তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।
তবে ১৯৯৭ সালের ১০ আগস্ট তার সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সহকর্মী মো. আবদুর রশিদকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে আরও দু’জন মো. আবদুল হামিদ ও মাহমুদুর রহমানকে গার্ড গ্রেড-২-এ পদোন্নতি দেওয়া হয়। পদোন্নতি পাওয়া ওই দু’জনের চূড়ান্ত পরীক্ষার মেধাতালিকায় অবস্থান ছিল ৪ ও ৫ নম্বরে।
পদোন্নতি বঞ্চিত জসিমউদ্দিন টালী বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে গত ২১ বছর ধরে আমি আমার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত। আদালতের রায়ের ৬ বছর পার হয়ে গেলেও আমাকে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায্য অধিকারের জন্য আবেদন জানিয়েছি পত্রিকার মাধ্যমে। যদি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে তাহলে একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’
সম্প্রতি জসিম উদ্দিন টালীর ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘ছোটখাটো বিষয় যদি আমাকে দেখতে হয় তাহলে রেল চালাবো কীভাবে? আর এটা অনেক আগের বিষয়।’
পদোন্নতি দিতে আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি উল্লেখ করলে মো. আমজাদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ থাকলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’