অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত দু্ই মাস ধরে আয় কম হচ্ছে। আপনাদের বেতন দিতে কী কষ্ট হচ্ছে, সেটা আমি জানি এবং কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা জানেন। ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আপনাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে। আপনাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের বেতন ভাতা পেতে হলে আয় করতে হবে। আপনাদের কাজের স্পৃহা বাড়াতে হবে।’
বিমান শ্রমিক লীগের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মোহাম্মদ ইনামুল বারী বলেন, ‘বিমানের উন্নতি হলে আমাদের উন্নতি হবে, এটা সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকুক আর লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে থাকুক। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সুবিধা হলো বাজেটে টাকা বরাদ্দ থাকবে। আয় করেন আর না করেন বেতন আসবে। কিন্তু সরকারের বাজেটে বিমানের জন্য এক পয়সাও বরাদ্দ থাকবে না। অতএব, আপনার যতই বলেন আমরা সরকারি, কিন্তু সরকার তো তা বলে না, বাজেটে বরাদ্দও রাখে না। আমি আপনাদের কথা দিতে পারি, আয় থেকে এক টাকাও আমি বাইরের কাউকে দেবো না, আপনাদের পেছনে খরচ হবে। কিন্তু আয় করতে হবে।’
ইনামুল বারী আরও বলেন, ‘দাবি করা বা দাবি আদায় করার চেয়ে বড় জিনিস হলো আমরা আমাদের দায়িত্বটুকু পালন করছি কিনা। ১০ বছর ধরে বিমানের প্রমোশন বন্ধ ছিল, আমি চালু করে বিপদে পড়েছি। যারা প্রমোশন পেয়েছেন, তারা খুব খুশি। প্রমোশন তো পেয়েছি, আর পাঁচ বছর প্রমোশন হবে না, তাই আর কাজও করতে হবে না। আর যারা প্রমোশন পায়নি, তারা অখুশি, অতএব কাজ করবো না। তাহলে প্রমোশন দিয়ে লাভ কী হলো? আগে ১০ বছর বন্ধ ছিল, সেটাই ভালো ছিল। একই অবস্থায় হয়েছে পে-স্কেল নিয়েও।’
ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরণে অর্গানোগ্রাম তৈরি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের মধ্যে যারা ২৮০০ টাকা বোনাস পান তাদের বোনাস বৃদ্ধি করা হবে বলেও জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ বলেন, ‘বিমানে দুই হাজারের বেশি লোক অস্থায়ীভাবে আছেন, তাদের স্থায়ী করা হচ্ছে না। কিন্তু এ শ্রমিকরা যদি ২ ঘণ্টা কাজ না করেন বিমানবন্দর অচল হয়ে পড়বে। তাহলে কেন তাদের চাকরি স্থায়ী করা হবে না। বিমানে কেন অর্গানোগ্রামের নামে টালবাহানা। জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকসহ অনেক সরকারি কোম্পানিতে অস্থায়ীদের চাকরি স্থায়ী করতে অর্গানোগ্রামের প্রয়োজন হয়নি।’
বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি মুশিকুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবি চলমান বিষয়, আমরা সমাধান চাই। আমরা সরকারি হিসেবে চলবো, নাকি লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে চলবো। নিয়মনীতি, ট্যাক্স ইত্যাদি সরকারি নিয়মে কাটা হয়, কিন্তু সুযোগ-সুবিধা সরকারি নীতিতে দেওয়া হয় না। ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী করতে হবে।’
সিবিএ সভাপতি মুশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফ্লাইট অপারেশন বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল, পরিচালক (প্রশাসন) মমিনুল ইসলাম, পরিচালক (প্ল্যানিং) মো.মাহবুব জাহান খান, ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) মো. আশরাফুল ইসলাম, পরিচালক (কাস্টমার সার্ভিস) আলী আহসান প্রমুখ।