বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে নারী গৃহকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরছেন। অনেকেই আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কাছে ব্যক্তিগতভাবে বা পরিবার-স্বজনদের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসার জন্য আবেদন করছেন।
এই নারী গৃহকর্মীদের সবাই প্রায় একইরকম অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। এরমধ্যে বেতন না দেওয়া, বাড়ির পুরুষ সদস্যদের যৌন নির্যাতন, গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রীর মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ফোন কেড়ে নেওয়া, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দেওয়া, কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকা, ছুটি না থাকা ইত্যাদি।
নির্যাতনের শিকার অনেক নারীকেই জীবন দিতে হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, নির্যাতনের পর পালিয়ে গেলে থানায় চুরি ও নাশকতার মামলা দেওয়া, নির্যাতনের পর পালিয়ে পুলিশের আশ্রয়ে গেলে আবার আগের নিয়োগকর্তার কাছে ফেরত পাঠানো, অসুস্থ হলে চিকিৎসা না করা, বেশি অসুস্থ হলে রাস্তা কিংবা দূতাবাসের সামনে ফেলে যাওয়া এবং দূতাবাসকে না জানিয়ে ক্রীতদাসের মতো এক এজেন্সি থেকে অন্য এজেন্সিতে বিক্রি করে দেওয়াসহ বিভিন্ন রকমের পাশবিকতার শিকার হচ্ছেন নারীরা। তাদের কাছ থেকে নিয়মিত এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি আরবে ধর্ষণসহ নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে অন্তত ২২ জন বাংলাদেশি নারীকর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে।
২০১৫ সালের মে থেকে এ বছরের মে মাস পর্যন্ত সৌদি আরবের জেদ্দা এবং রিয়াদে অবস্থিত সেফ হোম থেকে প্রায় দেড় হাজার নারীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফেরত আসা অধিকাংশ নারীই শারীরিক নির্যাতনের কারণে তাদের কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। পাশাপাশি, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন। তারা সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি সব নিয়ম-কানুন সম্পন্ন করে দারিদ্র্য থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমানো এই নারীদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশি অভিবাসী নারী গৃহকর্মীদের ভয়াবহ নির্যাতনের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এই নারীদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যকীয়।
যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি নারীদের অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের সম্মুখীন করছে তাদের চিহ্নিত করে রেজিস্ট্রেশন বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় অভিবাসন খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে নারীর অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
আসক দ্রুততার সঙ্গে এসব সমস্যা নিরসনে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার নারীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানিয়েছে।