হাসপাতালের প্রাঙ্গণে সন্তান প্রসব: ডাক্তার ও নার্সকে তলব

সুপ্রিম কোর্টদুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেওয়ার পর হাসপাতালের প্রাঙ্গণে রোগীর বাচ্চা প্রসব ও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সিনিয়র নার্স ছায়া চৌধুরীকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ১ জুলাই তাদের সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন আদালত।

পাশাপাশি, ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগমকে চিকিৎসা দিতে হাসপাতালের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া, নবজাতকের জীবন রক্ষায় হাসপাতালের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং মৃত নবজাতকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও নার্সদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি এবং সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট মোট নয়জনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এক আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (১১ জুন) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

এর আগে গত ১০ জুন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর পক্ষে মনজিল মোরসেদ রিটটি দায়ের করেন। সেই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত এই আদেশ দেন।

শুনানিকালে আদালত বলেন, ‘হাসপাতালের দায়িত্ব চিকিৎসা দেওয়া। কিন্তু তারা এ ধরনের আচরণ করতে পারে না।’

পরে মনজিল মোরসেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এর আগে গত ৯ মে রাত সাড়ে ১০টায় প্রসব বেদনা নিয়ে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান পুঁটিবিলা গৌড়স্থান এলাকার দিনমজুর মহররম মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেগম। কিন্তু সেখানে দুর্ব্যবহার করে রোগীকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে নার্স ছায়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এরপর হাসপাতালের প্রাঙ্গণে সন্তান প্রসব করেন মরিয়ম বেগম। তবে প্রসবের কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই নবজাতক মারা যায়।
এ ঘটনা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ওইসব প্রতিবেদন সংযুক্ত করে আদালতে রিট দায়ের করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আদালত সোমবার রুল জারিসহ আদেশ দেন।