শুক্রবার (১৫ জুন) বিকাল ৫টার দিকে শিমুকে সেলিনা বেগম ও আব্দুল মাজেদ নামের দুজন ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের খাতায় আব্দুল মাজেদকে ওই নারীর স্বামী বলে পরিচয় দেওয়া আছে। ঠিকানা রয়েছে ৪৯৫ অন্বেষা, দনিয়া, যাত্রাবাড়ী। তবে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ওই ঠিকানায় গিয়ে এই নামের কাউকে পায়নি।
যাত্রাবাড়ী থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাসির উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাসপাতালে যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, ওই ঠিকানায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের খোঁজা হচ্ছে।’
এদিকে, হাসপাতালে বসে সেলিনা বেগম নিজেকে শিমুর জা পরিচয় দিয়েছেন। তারা ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের জানান, শিমুর উচ্চ রক্তচাপের কারণে মৃত্যু হয়েছে। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবি বাবুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই নারীর মৃত্যুর পর তার স্বজনদের সঙ্গে আমরা কথা বলি। তখন তারা বলেছিল, উচ্চ রক্তচাপের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এরপর তারা থানায় যাওয়ার কথা বলে চলে যায়।’
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ঘটনার পর বিষয়টি যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে জানায়। এরপর থানা পুলিশ তাদের খোঁজাখুজি করে। তবে হাসপাতালে দেওয়া ঠিকানায় অনুযায় তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
এর আগে বিকালে সেলিনা বেগম হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, আব্দুল মাজেদ একজন ফল ব্যবসায়ী। অন্বেষা গলির ৪৯৫ নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় স্ত্রী আসমা আক্তার শিমু ও সন্তানদের নিয়ে থাকতেন। তাদের সঙ্গে তার ভাইয়ের পরিবারও থাকেন। শুক্রবার স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। এরপর মাজেদ তার স্ত্রীকে মারধর করেন। এতে শিমু অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
যাত্রাবাড়ী থানার এসআই নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, স্বামীর মারধরের কারণেই শিমুর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা যাবে। বর্তমানে মৃতের স্বজনদের খোঁজা হচ্ছে। লাশ ঢামেক হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে।’