বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আজ শনিবার পালিত হয়েছে বিশ্ব স্ক্লেরোডার্মা ( Scleroderma ) দিবস। দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, সেমিনারসহ নানা আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
র্যালি ও সেমিনারে নেতৃত্ব বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতালির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক মাউরিজিও কাটোলো এবং বেলজিয়ামের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ভেনেসা স্মিথ ।
র্যালিটি সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে।
আলোচনা অনুষ্ঠানে জানানো হয়, স্ক্লেরোডার্মা সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সুস্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে এ রোগে আক্রান্ত রোগীরা নানা ধরনের কুসংস্কারে আচ্ছন্ন থাকেন। এ রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা রোগীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারে।
বিএসএমএমইউ এর রিউমাটোলজি বিভাগ প্রতি বুধবার স্ক্লেরোডার্মা ক্লিনিকের ব্যবস্থা করে থাকে, যেখানে শুধু স্ক্লেরোডার্মা রোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, মানুষের শরীরে ছয় শতাধিক বাতরোগ হতে পারে,স্ক্লেরোডার্মা ( Scleroderma ) এর অন্যতম। “স্ক্লেরো” শব্দের অর্থ শক্ত, “ডার্মা” শব্দের অর্থ ত্বক বা চামড়া, “স্ক্লেরোডার্মা” ( Scleroderma ) শব্দের অর্থ “শক্ত ত্বক বা চামড়া”। এ রোগে সাধারণত ত্বক বা চামড়া শক্ত হয়ে যায়,তবে ত্বকের পাশাপাশি এ রোগে শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও আক্রান্ত হতে পারে, যদি শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হয়,তাহলে তাকে সিস্টেমিক স্ক্লেরোসিস বলে।
এ রোগের সাধারণ উপসর্গগুলো হলো শুরুতে হাত ও পায়ের পাতা এবং ওপরের তালুসহ আঙুলগুলো ফুলে যায়।এরপর চামড়া ধীরে ধীরে মোটা এবং শক্ত হওয়া শুরু করে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি হাতের কনুই এবং পায়ের হাঁটু পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি কনুই ও হাঁটুর উপরিভাগসহ মুখমণ্ডল,বুক এবং পিঠের চামড়া আক্রান্ত করতে পারে। পরবর্তীতে আঙুলের মাথাগুলো চিকন হয়ে যেতে পারে,অনেকের ক্ষেত্রে আঙুলের মাথায় ঘা হতে পারে।