ধ্রুব ও লুব্ধকের বাবা-মাকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সময়

ধ্রুব ও লুব্ধকের বাবা-মানিজেদের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে ধ্রুব (১২) ও লুব্ধকের (৯) বাবা-মাকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আদালত। তালাক হয়ে যাওয়ার পরও সন্তানদের কথা বিবেচনা করে মেহেদী হাসান ও কামরুন নাহার মল্লিকা আবার এক হতে চান কিনা এবং এ ব্যাপারে কী কী অগ্রগতি হয়েছে সেবিষয়ে আদালতকে জানাতে হবে তাদের।

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে বুধবার (৪ জুলাই) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টে বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে শিশুদের মা কামরুন নাহার মল্লিকার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন একেএম রিয়াদ সলিমুল্লাহ। অন্যদিকে বাবা মেহেদী হাসানের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল।

শুনানিতে আইনজীবী তাপস কান্তি বল শিশু দুটির বাবা-মায়ের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টিও আদালতকে অবহিত করেন। অন্যদিকে কামরুন নাহারের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল শিশুদের বাবা-মায়ের মধ্যে সম্পর্কন্নোয়ন হয়েছে বলে জানান। তবে কলহ কমিয়ে নিজেদের মধ্যে আরও সমঝোতার প্রয়োজন জানিয়ে সময় চান তিনি। এরপর আদালত তাদের ১ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেন। একইসঙ্গে এই সময়ের মধ্যে তাদের সম্পর্কের অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, কামরুন্নাহার মল্লিকা ও মেহেদী হাসান ২০০২ সালে বিয়ে করেন। এরপর তাদের কোল জুড়ে আসে দুটি ছেলে সন্তান। বর্তমানে বড় ছেলে মিয়া মো. সালিম সাদমান ধ্রুবর বয়স ১২ বছর ও ছোট ছেলের মিয়া মো. সাদিক সাদমান লুব্ধকের বয়স ৯ বছর। তারা যথাক্রমে চতুর্থ ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। তবে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহের জেরে ২০১৭ সালের ১২ মে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে শিশু দুটি বাবার তত্ত্বাবধানে তার ফুফুর কাছেই থাকতো।আদালতে ধ্রুব ও লুব্ধক

এরপর গত ২৯ মে দুই সন্তানকে নিজের কাছে চেয়ে রিট দায়ের করেন তাদের মা কামরুন নাহার। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে দুই সন্তানকে কেন মায়ের হেফাজতে দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। একইসঙ্গে ওই দুই শিশুকে আদালতে হাজির করতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও শিশু দুটির বাবাকে নির্দেশ দেন। সে নির্দেশ অনুসারে তাদের ২৫ জুন আদালতে হাজির করা হয়। 

দীর্ঘ এক বছর পর মা’কে দেখতে পেয়ে সেদিন (২৫ জুন) সন্তানরা মায়ের কাছে ছুটে যায়। ডিভোর্স হওয়া বাবা-মা’কে আবার এক হয়ে যেতে বলে শিশুদুটি আদালতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। তাদের কান্নায় এজলাশের পরিবেশও আবেগঘন হয়ে ওঠে। এসময় সন্তান দুটি বারবার তাদের বাবা-মা’কে একে অপরের কাছে ‘স্যরি’ বলার অনুরোধ জানায়। এমনকি বাবা-মাকে মিলিয়ে দিতে বিচারপতিদের কাছেও কান্নাজড়িত কন্ঠে আরজি জানায় তারা।

এরপর আদালত তার আদেশে বলেন, ৪ জুলাই পর্যন্ত শিশু দুটি মায়ের হেফাজতে থাকবে। তবে এই সময়ে পিতা শিশু দুটির দেখাশোনা করার সুযোগ পাবে।

একইসঙ্গে আজ বুধবার (৪ জুলাই) আদেশের পরবর্তী দিন ঠিক করে আদালত মামলাটি মুলতবি করেন। একারণে আজ আদালতে বাবা-মা সন্তানসহ উপস্থিত হন।

আরও পড়ুন- বাবা-মায়ের জন্য দুই শিশুর কান্নায় কাঁদলেন বিচারক