গত ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের হামলা চালানোর বিবরণ দেন আতাউল্লাহ। তিনি বলেন, “ওই হামলায় আহত হন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরুসহ কেন্দ্রীয় কমিটির আটজন সদস্য। হামলার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সেখান থেকে তাদেরকে বের করে দেওয়া হয়। এর কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, ‘ওপরের নির্দেশ।’ পরবর্তী সময়ে আহতরা ঢাকার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।”
সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এই যুগ্ম আহ্বায়কের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে অত্যাচার করছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘গত ১ জুলাই দুপুরে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে মিরপুরে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় রাশেদকে গ্রেফতার করে পাঁচ দিন রিমান্ডের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে। হামলা মামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা আদালতে গেলে শহীদ মিনারে কুকুরের মতো মেরে আহত করা হয়। ফারুক হাসানকে মেরে পরে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করে ছাত্রলীগ। শহীদ মিনারে আন্দোলনকারী ছাত্রীকেও নির্যাতন করা হয়। ওই ছাত্রী সিএনজিতে বাসায় যাওয়ার পথে তাকে বাহনটির ভেতরে যৌন নিপীড়ন করা হয়। সেই ছাত্রী থানায়ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।’
হামলা মামলার প্রতিবাদ করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায় বলেও অভিযোগ আতাউল্লাহর। তিনি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামকে হাতুড়ি, রামদা ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়। হামলায় তার পায়ের হাড় ভেঙে যায়। মেরুদণ্ডসহ সারা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন অবস্থায় হামলাকারীদের নির্যাতন ও পুলিশের আটকের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।’