বুধবার (১১ জুলাই) রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, ‘বাদল ফরাজীর বিষয়ে বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত যেসব কাগজপত্র রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থাপন করেছেন তাতে বলা হয়েছে— বাদল ফরাজী ভারতে সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলায় একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি। সেদেশের সরকার তাকে সেভাবেই বাংলাদেশ সরকারের কাছে বন্দি বিনিময় চুক্তির আলোকে হস্তান্তর করেছে। বাংলাদেশের বাদল ফরাজী ভারতে হত্যা মামলার অভিযুক্ত বাদল নন, এই ধরনের কোনও কারণ রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়নি বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাদল ফরাজীর কারামুক্তি চেয়ে রিট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয়েছে। তবে আদালত বাদল ফরাজীকে দেশে ফেরত আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, বাদল ফরাজীর মুক্তির জন্য অন্যকোনও আইনি প্রক্রিয়া আছে কিনা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য বলেছেন।’
বাদল ফরাজীর কারামুক্তির একমাত্র প্রক্রিয়া সম্পর্কে রিটকারী আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন,‘বাদল ফরাজীর মুক্তির জন্য বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি সাজা মওকুফের আবেদন করতে পারেন। অথবা ভারতীয় সংবিধানের ১৬১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাজা মওকুফের জন্য ভারত সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন। এছাড়া, তার মুক্তিতে আর কোনও আইনি প্রক্রিয়া খোলা নেই।’
এর আগে বুধবার (১১ জুলাই) সকালে বাদল ফরাজীর কারামুক্তি চাওয়া রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার কাউছার। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ।
আদালত বলেন, ভুল বিচারে ভারতে কারাভোগকারী বাদল ফরাজীর বিষয়ে সরকারের সব কার্যক্রম ইতিবাচক। এখন হুট করে কোনও রুল বা অবজারভেশন দিলে সেটা হিতে বিপরীত হবে। তার মুক্তিতে সরকারকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত।
এরপর আদালত রিট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ৬ মে দিল্লির অমর কলোনির এক বৃদ্ধাকে হত্যার ঘটনায় দিল্লির পুলিশ বাদল সিং নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজছিল। এ অবস্থায় ওই বছরের ১৩ জুলাই ট্যুরিস্ট ভিসায় বেনাপোল সীমান্ত পার হওয়ার পরপরই ওই বৃদ্ধাকে হত্যা মামলায় বাদল ফরাজীকে গ্রেফতার করে ভারতের পুলিশ। বাদল সিং মনে করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেখানে বিচার শেষে তাকে ওই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি ভারতের কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন।
পরে ভারতীয় একটি বেসরকারি সংস্থা বাদল ফরাজীর ঘটনা জানতে পেরে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। তারা ঢাকার পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে ৬ জুলাই দেশে ফেরত এনে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।
আরও পড়ুন:
বাদল ফরাজীর বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম ইতিবাচক, রিট খারিজ