এই যন্ত্রেই শনাক্ত করা যাবে মাদক
মাদক বহনকারীর শরীরের কোথায় মাদক রয়েছে তা শনাক্ত করবে যন্ত্র। এছাড়া অন্য কোনও ব্যক্তি মাদক বহন করে থাকলেও তা শনাক্ত করতে পারবে যন্ত্রটি। এমনই যন্ত্র পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। মাদক শনাক্তে এমন যন্ত্রের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সংস্থাটির।
সোমবার (১৬ জুলাই) বেলা ২টায় তেজগাঁও লাভ রোডের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এসব যন্ত্র কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ‘আই ড্রিম ইট’ নামে একটি প্রজেক্টকে এসব দেয়া হয়। কোরিয়ার কোয়কা (KOICA) নামে একটি প্রতিষ্ঠান এতে সহযোগিতা করেছে। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য অধিদফতরকে ৫টি নতুন গাড়িও দেয়া হয়েছে।
মাদক শনাক্তকারী যন্ত্রযন্ত্র ও গাড়ি হস্তান্তরের এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ‘যেখানেই মাদকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে আমরা সেখানেই অভিযান অব্যাহত রেখেছি। এভাবেই একদিন বাংলাদেশ থেকে মাদক নির্মূল হবে। আমরা এখন মাদকবিহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২১ সালের আমাদের যে লক্ষ্য সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছি। মাদক নির্মূল হলে আমরা ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নের দিকে এগুবো। কোয়কা কর্তৃক যে গাড়িগুলো প্রদান করা হয়েছে তা মাদক নির্মূলে বেশ কাজে লাগবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কাজের গতি বাড়বে। যদিও এই প্রজেক্টে ৩৭টি গাড়ির কথা বলা হয়েছে। আমরা ধীরে ধীরে বাকি গাড়িগুলোও দেবো।’
যন্ত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেই ধরা পড়বে কার কাছে মাদক আছেবাংলাদেশের জন্য মাদক একটি বড় সমস্যা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে যেটি বড় সমস্যা সেটি নিয়ে আমরা সবাই কাজ করছি। কোয়কা যে যন্ত্র প্রদান করেছে তার মাধ্যমে মাদক বিক্রেতা বা ক্রেতা যেই হোক না কেন তাদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। যন্ত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেই ধরা পড়বে কার কাছে মাদক আছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে আমরা মাদকবিহীন বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারবো।’
কোরিয়ার কোয়কা নামের একটি প্রতিষ্ঠান এসব গাড়ি প্রদান করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে কোয়কার কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. জো হিয়ান জু বলেন, সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেই আমরা গাড়িগুলো দিয়েছি। সবসময় পাশে থাকবে কোয়কা। আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ক্যাপাসিটি বাড়ানোর জন্য গাড়িগুলো দিয়েছি। পাশাপাশি আমরা মাদকদ্রব্য চিহ্নিত করার জন্যও যন্ত্র প্রদান করেছি। এর ফলে অভিযানে মাদক শনাক্ত করা খুব সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এই প্রজেক্টের মাধ্যমে যে যন্ত্র পাওয়া গেছে তা দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ৩৭টি সেবা প্রদান সহজ হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের রাসায়নিক পরীক্ষাগার আধুনিক করা হবে। এই প্রজেক্টের বাজেট ৪ মিলিয়ন ডলার, যা আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত ঘোষণার যে প্রত্যয় তা বাস্তবায়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’