শুনানির শুরুতে অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনের পক্ষে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দুটি তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হলেও রিপোর্ট দুটিতে দুই রকম মত দেওয়া হয়েছে।
তাই রিপোর্ট দুটি প্রসঙ্গে রিটকারী আইনজীবী অমিত দাসগুপ্তের মত জানতে চেয়ে আদালত বলেন, ‘প্রতিবেদন বিষয়ে আপনার কোনও বক্তব্য আছে কিনা?’ জবাবে এই আইনজীবী বলেন, ‘দুটি প্রতিবেদনেই দুই রকমের মত দেওয়া হয়েছে।’
এরপর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ‘একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ওই ওষুধগুলো দেশে আনা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো রেজিস্টার্ড ছিল না।’
এ সময় আদালত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বলেন, ‘তাহলে ড্রাগ অধিদফতরের অনুমতি ছাড়া কীভাবে ওষুধ আনলেন? আপনারা জানেন না মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে? তার মানে আপনাদের নলেজে ছিল। ওষুধ বা অপারেশন যন্ত্রপাতিতে যদি সমস্যা থাকে, তাহলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া সেগুলো দেশে আসে কীভাবে? এটা মানা যায় না। এটা বলে আপনারা (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) দায় এড়াতে পারেন না।’
জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ‘এই রিটটি চলমানযোগ্য নয়। স্বাস্থ্যসেবা অধিকার, মৌলিক অধিকার নয়।’ তখন আদালত জানতে চান, এই রিটটি জনস্বার্থে করা হয়েছে কিনা? তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘হ্যাঁ।’
এরপর আদালত বলেন, ‘রিটটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে কিনা সেটি আমরা রুল শুনানিতে দেখবো। সাংবিধানিক বিষয়টি আমরা ব্যারিস্টার আমির-উল-ইসলামের কাছে শুনবো।’
এরপর আদালত এ মামলার কার্যক্রম আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) পর্যন্ত মুলতবি করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চক্ষুশিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেল্থ সেন্টারে তিন দিনের চক্ষুশিবিরের দ্বিতীয় দিন ৫ মার্চ ২৪ জন নারী-পুরুষের চোখের ছানি অপারেশন করা হয়। অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহীন। এর মধ্যে চারজন রোগী নিজেদের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত স্বজনদের নিয়ে ঢাকায় আসেন। পরে ইম্প্যাক্টের পক্ষ থেকে ১২ মার্চ একসঙ্গে ১৬ জন রোগীকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়। ৫ মার্চের ওই অপারেশনের ফলে তাদের চোখের এত ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে যে ১৯ জনের একটি করে চোখ তুলে ফেলতে হয়। আর বাকি একজন অন্য জায়গায় চিকিৎসা নিতে থাকেন। এরপর গত ১ এপ্রিল আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সংযুক্ত করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট দায়ের করেন।
রিটের শুনানি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চক্ষুশিবিরে চিকিৎসা নিতে এসে চোখ হারানো ২০ জনের প্রত্যেককে ১ কোটি টাকা করে কেন ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।