ডিএসসিসিতে গত ২৫ জুন থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে এই জরিপটি চালানো হয়।
অঞ্চল ১-এর ২ হাজার ৫৯৯টি বাড়ির মধ্যে ৯৩৮টি বাড়ির ৯৬১টি স্থানে লার্ভা পাওয়া গেছে, যা জরিপ পরিচালিত বাড়ির ৩৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। লার্ভাগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক ২২ হাজার ৫০০টি লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
অঞ্চল ১-এর ব্যাপারে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের কাছে উদ্বেগজনক মনে হয়েছে। আমরা লার্ভা শনাক্তের পর সঙ্গে সঙ্গেই তা ধ্বংস করেছি। লার্ভা যাতে বৃদ্ধি না পায় সেজন্য আগামী শনিবার থেকে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
ডিএসসিসি জানিয়েছে, অঞ্চল ২-এর ১২টি ওয়ার্ডে লার্ভা শনাক্তকরণ ও ধ্বংসকরণ টিম ৪ হাজার ৩৪৪টি বাড়ি পরিদর্শন করে। এরমধ্যে ১৭৮টি বাড়ির ১৭৮টি স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে, যা পরিদর্শিত বাড়ির ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ। পরিদর্শনকালে এই এলাকায়ও তিন হাজার লিফলেট বিতরণ করা হয়।
অঞ্চল ৩-এর ১২টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার ৬৯৩টি বাড়ি পরিদর্শন করে ২৭৫টি বাড়ির ৩২৩টি স্থানে লার্ভা পাওয়া যায়, যা মোট পরিদর্শিত বাড়ির ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ সময় লার্ভা ধ্বংস করে ২১ হাজার ৬০০ লিফলেট বিতরণ করা হয়।
একই সঙ্গে অঞ্চল ৪-এর ১১টি ওয়ার্ডের ৩ হাজার ৪০৬টি বাড়ি পরিদর্শন করে ৬৯টি বাড়ির ৮২টি স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। যা পরিদর্শিত বাড়ির ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এই অঞ্চলে ২১ হাজার ৪০০ সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
সর্বশেষ অঞ্চল ৫-এর ১৫টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার ৫০০টি বাড়ি পরিদর্শন করে ২১০টি বাড়ির ২১০টি স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। যা পরিদর্শিত বাড়ির ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ সময় নগরবাসীকে সচেতন করতে ৩০ হাজার লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি লার্ভাগুলো ধ্বংস করা হয়।
অভিযানকালে দেখা গেছে, লার্ভাপ্রাপ্ত বাড়ির পানির ড্রাম, ফুলের টব, ঘরের আশপাশে পড়ে থাকা মাটির ভাঙা হাঁড়ি-পাতিল, পরিত্যক্ত কলস, বালতি, বোতল, কনটেইনার, টায়ার, পলিথিন ব্যাগ, ছোট-বড় গর্ত, নালা ও পুকুরের জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা রয়েছে।
এর আগে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত নানা রোগের প্রকোপ থেকে নাগরিকদের মুক্তি দিতে এডিস মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থানীয় কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে প্রতিটি অঞ্চলে একটি করে কমিটি গঠন করে ডিএসসিসি। এরমধ্যে অঞ্চল ১-এর কমিটির এ সংক্রান্ত তার এলাকায় অনুসন্ধান করে ১৮টি বাড়ির মধ্যে ১১টি বাড়িতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পেয়েছিল। বিষয়টি গত ৭ মে প্রতিবেদন আকারে সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে পাঠান অঞ্চল ১-এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল মজুমদার (উপসচিব)।
এর আগে গত বছরের জুলাইয়ের দিকে নগরজুড়ে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপের পর ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ, আক্রান্তদের ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদানসহ নানা উদ্যোগ নেয় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি সংস্থাটি অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংসের বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেয়।