মাত্র ৩৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে খুড়িয়ে চলছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর। যদিও নিয়ম অনুযায়ী লোকবল থাকার কথা ৫০। করণিক পদে (ক্লারিক্যাল) লোকজন নেই বললেই চলে। এরপরও অধিদফতরের মহাপরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাবি, এক বছরের মধেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে সংস্থাটি।
সূত্রমতে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) ওপর নির্ভরশীল হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর চলছে দুই বছরের বেশি সময় ধরে। এ সময়ের মধ্যে অরগানোগ্রাম অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দিতে পারেনি সরকার। অরগানোগ্রাম অনুযায়ী জনবল ৫০ হলেও মাত্র ৩৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে চলছে অধিদফতরের কার্যক্রম। বিভিন্ন স্তরের পাঁচ হাজার ২১০টি মাদ্রাসা ও লক্ষাধিক শিক্ষক পরিচালনা করছে সংস্থাটি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক ও জোরদার করতে বর্তমান সরকার ২০১৫ সালে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করে। প্রথমে কাকরাইলের জাতীয় স্কাউট ভবনে ভাড়া অফিসে স্বল্প পরিসরে কার্যক্রম শুরু হয়। এখন ইস্কাটনের রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ারে ভাড়ায় (তৃতীয় তলা) এ দফতরের কার্যক্রম চলছে। এখনও নিজস্ব ভবন হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য ও এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির জন্য ইলেক্ট্রনিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) গঠন করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি জনবল বাড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে দেন-দরবারও চালিয়ে যাচ্ছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. বিল্লাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর সয়ংসম্পূর্ণ হবে। বিগত দুই বছরের বেশি সময় সবটা গুছিয়ে আনা সম্ভব হলেও ইএমআইএস নেই। এখনও আমাদের নির্ভর করতে হয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের ওপর। এক বছরের মধ্যেই নিজস্ব ইএমআইএস সেল তৈরি করা সম্ভব হবে। আর জনবল বাড়তে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অরগানোগ্রাম অনুযায়ী মোট জনবল ৫০ হলেও কর্মরত আছেন ৩৬ জন। ফলে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে অধিদফতরটি। ইএমআইএস গঠন শেষ হলেই আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো। তখন ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি মাদ্রাসা শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে পারবে।’
একই দাবি করেন মহাপরিচালকসহ অধিদফতরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। তারা জানান, শিক্ষকদের কার কী অবস্থা তা জানতে মাউশির কাছে যেতে হয়। শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আপডেট জানার জন্য মাউশির ইএমআইএস সেলে যেতে হয়। মন্ত্রণালয় কোনও তথ্য চাইলেও নির্ভর করতে হয় মাউশির ওপর। ইএমআইএস সেল গঠনের কাজ এক বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করে কর্মকর্তারা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে বিভিন্ন স্তরের পাঁচ হাজার ২১০টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসার (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) সংখ্যা তিন হাজার ৪৩৩টি। দাখিল মাদ্রাসার (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) সংখ্যা ছয় হাজার ৫৯৩টি। আলিম মাদ্রাসার (একাদশ ও দ্বাদশ শেণি) সংখ্যা এক হাজার ৫৫৮টি। কামিল মাদ্রাসার (মাস্টার্স/স্নাতকোত্তর) সংখ্যা ২১৯টি।