হলফনামার মাধ্যমে মামলার নথি বদলে যাওয়ার ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট

হাইকোর্ট

হলফনামার মাধ্যমে মামলার নথি বদলে যাওয়ার ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী রবিবার (৫ আগস্ট) হাইকোর্টের হলফকারী কমিশনার (ফৌজদারি শাখা) মো. সুরুজ মিয়াকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১ আগস্ট) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রোনা নাহারিন ও এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। এ সময় দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহীন আহমেদ।

মামলার বিবরণে দেখা যায়, গ্রামীণ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা প্রতারণামূলকভাবে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের ছনকান্দা শাখা হতে পৃথক দুটি ডিপোজিট  স্লিপের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে এবং সে টাকা গ্রামীণ ব্যাংকে জমা না দিয়ে পৃথক পৃথক তিনটি ডিপোজিট স্লিপের মাধ্যমে মোট ৮৯ হাজার ৭২০ টাকা আত্মসাত করে। পরে দুদক তদন্ত করে সহকারী পরিচালক রাম প্রসাদ মন্ডল ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এ তিন আসামি হলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের জামালপুর ছনকান্দা শাখার সিনিয়র কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মো. আবদুল ওহাব, সাতপোয়া সরিষাবাড়ী শাখার শাখা ব্যবস্থাপক মো. আলী আজগর এবং করিমগঞ্জ শাখার শাখা ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী। তাদেরকে ২০১৬ সালের ৩ মে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর ২০১৬ সালের ১৪ জুন আসামি মো. আলী আজগর জামালপুর জেলা দায়রা জজ মো. সাইদুর রহমান খানের আদালতে জামিন আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে সে জামিন আবেদন না- মঞ্জুর করেন আদালত। কিন্তু মো. আলী আজগরের সেই না- মঞ্জুর জামিন আদেশের কপি দিয়ে মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন এবং জামিন নেন। একইসঙ্গে এ আসামির জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন আদালত।

পরে ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর এক বছরের ও ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর পুনরায় ৬ মাসের জন্য ইকবাল হোসেন চৌধুরীর জামিন বাড়ানো হয়।

এরপর চলতি বছরের গত ২৫ জুলাই আসামি মো. ইকবাল হোসেনের জামিনের বিষয়ে রুল শুনানি শুরু হয়। শুনানিকালে আদালত দেখতে পান, এ মামলার আসামি মো. আলী আজগরের জামিন না-মঞ্জুর আদেশের সত্যায়িত কপি দিয়ে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছে মামলার অন্য আসামি ইকবাল হোসেন চৌধুরী। 

পরে এ ঘটনায় হাইকোর্টের হলফকারী কমিশনার (ফৌজদারী শাখা) মো. সুরুজ মিয়াকে তলব করেন আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বুধবার (১ আগস্ট) আদালতে ব্যাখ্যা দিতে হাজির হন।

এ সময় সুরুজ মিয়া আদালতকে বলেন, আমরা মূলত হলফের বিষয়টি দেখি। কিন্তু মামলার কাগজপত্র দেখার দায়িত্ব আইনজীবীদের। তখন আদালত তার এই বক্তব্য হলফনামা আকারে দুপুরে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

তবে হলফকারী কমিশনার সময় চাইলে আদালত তাকে ব্যাখ্যা দিতে আগামী রবিবার (৫ আগস্ট) পর্যন্ত সময় দেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বাংলা ট্রিডিবউনকে বলেন, মূলত মামলার সব কাগজপত্র পর্যবেক্ষণ করা হলফ কমিশনারের দায়িত্ব। কিন্তু তিনি এ মামলায় তা করেননি। ফলে আদালত হলফনামা আকারে এ ঘটনার বিষয়ে সুরুজ মিয়াকে ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।