সরকারিকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরাও শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। তবে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অধীনে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে শিক্ষকদের। এমন বিধান রেখে ‘সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকৃত বিধিমালা ২০১৮’ জারি করেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) জারি করা আদেশটি বুধবার (১ আগস্ট) প্রকাশ করে।
সরকারিকরণের প্রক্রিয়া থাকা ২৮৩টি কলেজে প্রায় ৪০০ শিক্ষকদের সরকারি করার আদেশ জারি হবে নতুন এই বিধিমালার আওতায়। ‘জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষক ও অ-শিক্ষক কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা, ২০০০’ বিধিমালার ফাঁদে আকটা পড়েন এসব শিক্ষকরা। এই বিধিমালা রহিত করে নতুন বিধিমালা জারি হয়েছে। ফলে শিক্ষকরা যোগ্যতা ঠিক থাকলে আটকে পড়া শিক্ষকদের আর আত্তীকরণে সমস্যা থাকছে না।
বিধিমালায় বলা হয়, কোনও শিক্ষক শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যে ওই ক্যাডারের প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে পিএসসির অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। কোনও শিক্ষক পিএসসির অধীনে নেওয়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্ত হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাকে শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিতে পারবে। যোগদানের তারিখ থেকেই শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হবেন এসব শিক্ষকরা। পাশাপাশি ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়া শিক্ষকরা বিভিন্ন সরকারি কলেজ ও দফতরে বদলি হতে পারবেন।
নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক ও কর্মচারীরা, সংশ্লিষ্ট কলেজ সরকারিকরণের তারিখ থেকে, বিদ্যমান জাতীয় বেতন স্কেলের সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে স্ব-স্ব পদের বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।
তবে বিধিমালা অনুযায়ী সাধারণভাবে সরকারি হতে যাওয়া কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকেরা নন–ক্যাডার হিসেবে নিজ নিজ পদে নিয়োগ পাবেন। তাদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রতি অনুযায়ী যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই, সেগুলোয় একটি করে কলেজ জাতীয়করণের জন্য ২০১৬ সাল থেকে তালিকাভুক্তির কাজ শুরু করে সরকার। ২৮৩টি কলেজকে সরকারিকরণের জন্য চূড়ান্ত করা হলে সরকারি কলেজের শিক্ষকরা বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবি করেন। এই নিয়ে আন্দোলনও করেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা। এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ২৮৩ কলেজের বাদ পড়া শিক্ষকদের আত্তীকরণ করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া ২৮৩ কলেজ পূর্ণাঙ্গ সরকারি না হওয়ায় শিক্ষকদের বদলি, পদায়ন এবং মর্যাদা কী হবে, সেটা নিয়ে আন্দোলনের কারণে আটকে যায়। বিধিমালা জারির পর আর কোনও বাধা থাকলো না এসব কলেজে শিক্ষকদের।