খাবার নিয়ে অভিভাবকরাও রাজপথে

রাস্তায় অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের খাবার দিচ্ছেন অভিভাবকরারাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিসহ ৯ দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাস্তায় নেমেছেন অনেক অভিভাবকও। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) দুপুরে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার, পানি, স্যালাইন এবং বিস্কুট বিতরণ করতে দেখা গেছে অনেক অভিভাবককে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎফুল্ল ও প্রেরণা সৃষ্টি হয়।

খাবার ও পানি নিয়ে আসা অভিভাবকদের একজন নার্গিস আক্তার। ধানমন্ডিতে থাকেন তিনি। তার সন্তানও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় আন্দোলন করছে। বাংলা ট্রিবিউনকে নার্গিস আক্তার বলেন, ‘শুধু আমার ছেলেই না, আরও অনেক মায়ের সন্তানেরা ন্যায্য দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। আমি তাদের দাবির সঙ্গে একমত। আমি আশা করি, অন্য অভিভাবকরাও তাদের সন্তানের জন্য নিরাপদ সড়ক চান। এই ভ্যাপসা গরমে অসুস্থ হয়েও পড়তে পারে তারা। তাই নিজেই চলে আসলাম। তাদের পানির ব্যবস্থা অন্তত করা গেলো।’

শিক্ষার্থীদের খাবার ও পানির বোতল দিচ্ছেন অভিভাবকরাঅন্যদিকে, কয়েকজন তরুণীকে দেখা গেলো খাবারের প্যাকেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করতে। পরিচয় জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের নাগরিক এবং এই শিক্ষার্থীদের বড় বোন। আর কোনও পরিচয় নাই।’

শুধু অভিভাবকরাই নয়, সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার পানি বিতরণ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অফিস থেকে নির্দেশ দেওয়ায় তারা পানি নিয়ে এখানে এসেছেন।

বাসা থেকে রান্না করে আনা খিচুড়ি শিক্ষার্থীদের খাওয়াচ্ছেন এক অভিভাবক, ছবি- সাজ্জাদ হোসেন প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে ভর্তি করা হয়।
শিক্ষার্থীদের খাবার ও পানি নিয়ে এসেছেন অভিভাবকরাএ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিক বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি,  নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌপরিবহনমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। গত পাঁচদিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। বুধবার (১ আগস্ট) বিকালে বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে  বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই দিন সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) রাজধানীসহ সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণার কথা জানানো হয়।