গণপরিবহন ৬৬ হাজার, লাইসেন্সধারী চালক ১০ হাজার






ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

সারাদেশে রেজিস্ট্রেশনধারী পরিবহন রয়েছে ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭০টি। এর মধ্যে তিনটি ক্যাটাগরিতে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহনের জন্য গণপরিবহন রয়েছে ৬৬ হাজার ২৩৫টি। তবে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াও রয়েছে বিপুল সংখ্যক গাড়ি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণপরিবহনের সংখ্যা লক্ষাধিক। আইন অনুযায়ী এ ধরনের যান চালানোর জন্য চালকের অবশ্যই পাবলিক সার্ভিস ভেহিক্যাল (পিএসভি) সনদ লাগবে। কিন্তু এসব পরিবহনের জন্য এ ধরনের লাইসেন্সধারী চালক রয়েছেন মাত্র ১০ হাজার ২৫৬ জন। অর্থাৎ মোট পরিবহনের মাত্র ১৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। একে আইনের চরম লঙ্ঘন ও খামখেয়ালিপনা হিসেবেই দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।
গত রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ওরফে রাজীব ও একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম ওরফে মিম নিহত হন। দুর্ঘটনা ঘটানো তিনটি বাসের কোনও চালকেরই বৈধ লাইসেন্স ছিল না। এই ঘটনার পর ঘাতকদের বিচারের দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করতে শুরু করেন। এ পটভূমিতে সড়কে নৈরাজ্যের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন অথরিটি (বিআরটিএ) ২০টি ক্যাটাগরিতে পরিবহনের লাইসেন্স দিচ্ছে। এই ক্যাটাগরিগুলো হচ্ছে অ্যাম্ব্যুলেন্স, অটোরিকশা, অটো-টেম্পু, বাস, কার্গো ভ্যান, কাভার্ড ভ্যান, ডেলিভারি ভ্যান, হিউম্যান হলার, জিপ (হার্ড/সফ্ট), মাইক্রোবাস, মিনিবাস, মটরসাইকেল, পিক-আপ (ডাবল/সিঙ্গেল কেবিন), প্রাইভেট প্যাসেঞ্জর কার, স্পেশাল পারপোস ভেহিক্যাল, ট্যাঙ্কার, ট্যাক্সিক্যাব, ট্রাকটর, ট্রাক ও অন্যান্য। এর মধ্যে বাস, হিউম্যান হলার ও মিনিবাসকে গণপরিবহন হিসেবে ধরা হয়।
এ বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে গণপরিবহন (বাস, মিনিবাস ও হিউম্যান হলার) ক্যাটাগরির পরিবহন রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ৬৬ হাজার ২৩৫টি। এর মধ্যে বাস ৪৫ হাজার ৩৪৭, হিউম্যান হলার ১৮ হাজার ২৫টি ও মিনিবাস ২৮ হাজার ৬৩টি। এসব পরিবহন চালাতে হলে চালককে অবশ্যই পাবলকি সার্ভিস ভেহিক্যাল (পিএসভি) লাইসেন্স নিতে হবে।
কিন্তু এ বছরের ৩১ জুন পর্যন্ত গত ৮ বছরে বিআরটিএ থেকে এ ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে ১১ হাজার ১০০টি। প্রতিটি লাইসেন্স দেওয়া হয় পাঁচ বছরের জন্য। এসব লাইসেন্সের মধ্যে নবায়ন করা হয়েছে ১০ হাজার ২৫৬টি। ফলে বর্তমানে গণপরিবহন চালানোর জন্য বৈধ চালক রয়েছেন মাত্র ১০ হাজার ২৫৬ জন, যা মোট পরিবহনের মাত্র সাড়ে ১৫ শতাংশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার (বিআরটিএ) একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গণপরিবহন চালানো জন্য যে সংখ্যক লাইসেন্সধারী চালক রয়েছে তা খুবই নগণ্য। কোনও চালকই নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স সংগ্রহ করছে না। অনেকেই সাধারণ একটি লাইসেন্স সংগ্রহ করেই গণপরিবহনসহ ভারী যানবাহন চালানো শুরু করে। এ ধরনের চালককে চিহ্নিত করার দায়িত্ব ট্রাফিক সার্জেন্টদের। কিন্তু তারাও তা করছে না। যে কারণে সড়কে এই নৈরাজ্য। এই বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো যদি আইনের সঠিক বাস্তবায়ন করা যেত। কিন্তু নানা জটিলতা ও প্রভাবশালীদের চাপের কারণে একে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।’
জানতে চাইলে বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার-১) শেখ মো. মাহবুব-ই রাব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে যদি কোনও পরিবহন যাত্রীবহন করে তবে তাকে অবশ্যই পিএসভি সনদ নিতে হবে। এই সনদ ছাড়া পরিবহন চালানো বেআইনি।’
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লাইসেন্সের বাইরেও অনেক গণপরিবহন আছে। সব মিলিয়ে গণপরিবহনের সংখ্যা লক্ষাধিক হবে। আর হালকা আর ভারী যানবাহনও এক নয়। প্রাইভেট কার চালক কখনও বাস চালাতে পারে না। এ জন্য আলাদা আলাদা লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু আমাদের চালকরা কোনোভাবে একটি লাইসেন্স সংগ্রহ করেই গণপরিবহনসহ ভারী যানবাহন চালানো শুরু করে। যেমন ঘটেছে জাবালে নূরের ঘটনায়। এ জন্য শক্ত আইন পাস করতে হবে। আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’