রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। আন্দলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ও বহিরাগতদের হামলার ছবি তুলতে গিয়ে তারা হামলার শিকার হন।
বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন সারাবাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টালের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট উজ্জল জিসান। বিমানবন্দর সড়কের জসিম উদ্দিন মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান উজ্জল জিসান।
তিনি বলেন, ‘মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় পাঁচজন আমার সামনে এসে দাঁড়ায়। আমরা গলায় থাকা আইডি কার্ড কেড়ে নিতে চেষ্টা করে। পেছন থেকে আরও কয়েকজন আসে। তারা বলে, ‘আমাদের মিডিয়ার দরকার নাই’।”
তাদের পরিচয় জানতে চাইলে নিজেদের ছাত্র দাবি করে তারা। জিসান বলেন, ‘নিজেদের ছাত্র দাবি করে তারা। কিন্তু কোথায় পড়ে, এটা জিজ্ঞেস করার পরই আমার ওপর হামলা করে। ১০-১২ জন মিলে কিল-ঘুষি মেরে আমাকে আহত করে।’
দুপুরে যুগান্তরের সিনিয়র ফটোসাংবাদিক নজরুল ইসলাম মিরপুর ১০ নম্বরের ফুটওভার ব্রিজে দাঁড়িয়ে মোবাইলে ছবি তোলার সময় তার সঙ্গেও দুই শিক্ষার্থী অসৌজন্যমূলক আচারণ করে। তারা আদমজী ক্যান্টনমেন্টের দুই শিক্ষার্থী।
রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও উত্তরায় থেকে বেসরকারি টিভি চ্যানেল বাংলা ভিশনের দুটি গাড়ির চাবি নিয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। রিপোর্টারদের বহনকারী ওই গাড়ির চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। শিক্ষার্থীরা এজন্য তাদের গাড়ির চাবি নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বাংলা ভিশনের সংবাদকর্মী দীপন দেওয়ান।
তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে চাবির অভাবে চালু করতে না পারায় রিকশাযোগে অফিসে আসি। কারণ অফিসে নিউজ ধরানোর তাড়া ছিল।’
উত্তরায় বাংলা ভিশনের একটি গাড়ির চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার পরও তাকে আটকায় শিক্ষার্থীরা। এরপর চালকের কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়ে তা ভেঙে ফেলে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিকেলে রাজধানীর কাফরুল থানার কাছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় মোহনা টেলিভিশনের রিপোর্টার মাঈনুল হোসেন পিন্নু ও ক্যামেরাম্যান হাবিবুর রহমান কবির আহত হন। এসময় ক্যামেরা ভাঙচুর করাসহ মেমোরি কার্ড ছিনতাই করে তাদের মারধর করা হয়। রিপোর্টার পিন্নুর মাথা ফেটে গেছে। তাদের দুজনকে মিরপুর ১৪ নম্বরের ডেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মোহনা টিভির জয়েন্ট নিউজ এডিটর জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, ‘হামলাকারীরা ছিল হেলমেট পরা। তারা শিক্ষার্থী নয় বলে রিপোর্টার পিন্নু আমাদের জানিয়েছেন। তারা বহিরাগত। তাদের মাথায় হেলমেট থাকায় তাদের চেনা যায়নি। পুলিশের সামনেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।’
রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় শিক্ষার্থীরা গাড়ির কাগজপত্র তল্লাশির সময় পুলিশ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের চাওয়া অনুযায়ী কাগজপত্র না দিতে পারলেই তারা উত্তেজিত হয়ে যায়। কখনও কখনও গাড়ির চাবি নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।