পানের দোকানদারকেও প্রশিক্ষণ দেয় বিআরটিএ: দিয়ার বাবা

দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন (ছবি- সংগৃহীত)

রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, ‘বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) পানের দোকানদারকেও ধরে এনে প্রশিক্ষণ দেয়, দুপুরে খাওয়ায়। এই হলো তাদের প্রশিক্ষণ। তারা হাজার হাজার প্রশিক্ষণে আগ্রহীর মধ্যে কোনও চালক খুঁজে পায় না।’

বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘একাত্তর টিভি’র নিয়মিত আয়োজন ‘একাত্তর জার্নালে’ তিনি এ অভিযোগ করেন।

জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বিআরটিএ-এর অনেক দায়িত্ব থাকলেও তারা তা পালন করে না। সড়কে তাদের একটা টিম থাকা দরকার, অথচ তা নেই। চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার, তারা তা করে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘এসব ঠিক করার দায়িত্ব বিআরটিএ-এর। চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্বও তাদের। তারা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। তারা এসব করে না। এসব নজরদারির লোক বিআরটিএ-এর নাই। বিআরটিএ-এর দায়িত্ব আছে। কিন্তু সেটা তারা পালন করে না। যাদের লাইসেন্স নাই, তারা দশটা মানুষ মেরে চলে গেলেও আমরা খুঁজে পাবো ন। কিছুদিন আগে আমাদের কিছু লোকজন ধরে নিয়ে গেছে বিআরটিএ। এরপর দুপুরে খাইয়ে আবার ৫০০ করে টাকা দিয়ে দিয়েছে। এটা কিসের প্রশিক্ষণ দিলো। এটা কোনও প্রশিক্ষণ না। আমাদের সঙ্গে পান দোকানদারকে ধরে নিয়ে গিয়ে তাকেও প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই হলো তাদের কাজ।’

তিনি বলেন, ‘আমি মীমের বাবা। আমি একজন চালক। কথা বলার মতো শক্তি নেই। আমি অনেক ক্লান্ত। আমরা সকাল বেলা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়েছি। তিনি আমাদের সান্ত্বনা দিয়েছেন। তিনি আমাদের ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন। রাজীবের পরিবারকেও দিয়েছেন। তিনি সব দাবি মেনে নিয়েছেন।’

জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমি আরও একটি দাবি করেছি। সেটি হলো– অদক্ষ ড্রাইভারের কারণে আজ আমার মেয়ে হারিয়েছি। যদি দক্ষ ড্রাইভার এবং লাইসেন্সওয়ালা ড্রাইভার গাড়ি চালাতো, তাহলে আমি আমার মেয়েটাকে হারাতাম না। যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানকার রাস্তার সাইডে দাঁড়ানো ছিল ছেলেমেয়েরা। ওভার ব্রিজ থেকে যখন তারা (চালক) নামছিল, তারা খুব পাল্লা দিয়ে নামছিল। স্কুল ছুটি হয়েছে, সেটা দেখে চালকদের উচিৎ ছিল একটার পেছনে আরেকটা যাওয়ার। একটু আস্তে ধীরে যাওয়া উচিৎ ছিল। লেনের দাগ আছে, কিন্তু তারা সেই লেন মানেনি। তারা অদক্ষ ড্রাইভার। তারা আমার মেয়েকে মার্ডার করছে। এদের বিচার হতে হবে। আজকে অদক্ষ ড্রাইভারের কারণে এই অবস্থ। আমি বিচার চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। বিচার হবেই। এটার বিচার কেউ না করে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘যত বাস সার্ভিস আছে, তার মধ্যে কয়জন ড্রাইভারের লাইসেন্স আছে? বিআরটিএ-তে অনেক বড় বড় কর্মকর্তা আছেন। অনেক দালালও আছে। একটা লাইসেন্স করতে তারা নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি টাকা নেয়। দালালরা ১০ হাজার টাকা দেয়। কারা নেয় এই টাকা? ইন্টারভিউ ছাড়া, পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স দিয়ে দেয়। এগুলো কি নিয়মে আছে?’

এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কি আশ্বাস দিয়েছেন জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘নিহত আব্দুল করিম রাজু এতিম। তার বাবা ছিল না। আমার মেয়েটাকে বাঁচাতে গিয়ে এই ছেলেটা মারা যায়।  প্রধানমন্ত্রী একজন দামি ব্যক্তি, তিনি আমাদের অনেক্ষণ সময় দিয়েছেন। তার সঙ্গে আমাদের অনেক কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছাত্রদের ৯ দফা দাবি আমিও করেছি। তিনি সব দাবি মেনে নিয়েছেন। আমার একটা দাবি ছিল, স্কুল-কলেজে বিআরটিসি-এর বাস সার্ভিস চালু করা। প্রধানমন্ত্রী সেটাও মেনে নিয়েছেন।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দু’জন করে পুলিশ থাকবে। তারা শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারে সহযোগিতা করবে। সড়কে ম্যাজিস্ট্রেটের মোবাইল কোর্ট থাকবে।’

দিয়ার বাবা বলেন, ‘আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে গেলে এখনও হাইড্রোলিক হর্ন বাজাই না। বয়স্ক মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দেখলে গাড়ি থামিয়ে দিই, তারা রাস্তা পারাপার হয়।’

গত রবিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের মুখে বাসচাপায় নিহত হয় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম রাজু। এরপর থেকে টানা পাঁচ দিন ধরে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।