ঢাবির সেই তিন শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে





মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে থানায় সোপর্দ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার (৬ আগস্ট) ফজলুল হক হলের এ তিন শিক্ষার্থীকে মারধর করার পর ছাত্রলীগ থানায় সোপর্দ করেছিল। আজ মঙ্গলবার তাদের মুক্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বামপন্থী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, তিন শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী শিক্ষার্থীদের দাবির কথা শুনে ১০ মিনিট সময় নেন। এরপর ওই তিন শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি শাহবাগ থানার সঙ্গে কথা বলেন। পরে অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী তাদের ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই তিন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান আটক ছাত্রদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি দুঃখিত, আটককৃতদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’
গতকাল থানায় সোপর্দ করা এ তিন শিক্ষার্থীসহ মোট ছয়জনকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা হলেন গণিত বিভাগের ছাত্র তারিকুল ইসলাম, তথ্য ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের মশিউর রহমান সাদিক, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের সাদ্দাম হোসেন, তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের ওমর ফারুক, বায়োক্যামেস্ট্রি মোলিকুলার বায়োলজি বিভাগের জাহিদ ও ফিজিক্সের জোবাইদুল হক রনি। তাদের মধ্যে তারিকুল, সাদ্দাম ও রনিকে পুলিশে দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন: ঢাবির ৬ শিক্ষার্থীকে মারধর, তিনজনকে পুলিশে সোপর্দ