হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক বিপন্ন পাখি ও বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর এবং ঢাকা কাস্টমস হাউস। উদ্ধার হওয়া বিপন্ন পাখি ও বন্যপ্রাণীগুলো সোমবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় বন কর্তৃপক্ষের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল হক।
তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া পাখি ও প্রাণীর মধ্যে রয়েছে ১৭০ জোড়া লাভ বার্ড, তিন জোড়া বেবি প্যারেট, তিন জোড়া কোকাটেল (কাকাতুয়া), ১০ জোড়া কনুর, তিন জোড়া ময়ুর, এক জোড়া এরা অ্যারোনা, পাঁচ জোড়া গ্রিন উইং প্যারাকিট, দুই জোড়া অ্যারাউনা, দুই জোড়া বাজিগার, এক জোড়া লামুর র্যা বিট ও দুই জোড়া মারমুস র্যা বিট। এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৪৪ লাখ টাকা।
শুল্ক গোয়েন্দা প্রধান জানান, তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এই পাখি ও প্রাণীগুলো আমদানি করে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো দক্ষিণ গোরানের ইনফোবিজ ইন, ভাটারা কাজী বাড়ি সড়কের বিডি ইনোভেটিভ লাইভস্টকস ও উত্তরার সজিব এন্টারপ্রাইজ।
উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো বিপন্ন তালিকাভুক্ত উল্লেখ করে সহিদুল হক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিআইটিইএস (CITES) অনুসারে বিপন্ন তালিকাভুক্ত প্রাণী আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নন-ডেট্রিমেন্টাল রিপোর্ট ও বণ্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ মোতাবেক জীবন্ত পশুপাখি আমদানিতে বন অধিদফতরের অনাপত্তি (NOC) ছাড়া এসব পাখি ও প্রাণী আমদানি করা হয়েছে।’
আমদানিকারকের বিরুদ্ধে শুল্ক আইনসহ অন্যান্য আইন লঙ্ঘনের কারণে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেও বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, কার্গো ভিলেজে অতিরিক্ত গরমে পাখি ও বন্যপ্রাণীগুলো মুমূর্ষু হয়ে যাওয়ায় আমদানিকারক, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, লাইভস্টক কোয়ারেন্টাইন কর্তৃপক্ষ, বন অধিদফতর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমসসহ সব পক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের খাঁচায় সংরক্ষণের জন্য বন অধিদফতর কর্তৃপক্ষের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।