পল্লবীতে যুবকের মরদেহ, হত্যা না আত্মহত্যা!

লাশ উদ্ধারএকই বাড়ির পাশের ঘরে বসবাসরত একটি মেয়েকে পছন্দ করতো সাইফুল ইসলাম (১৮)। সে মেয়েটিকে বিয়েও করতে চেয়েছিলেন। তবে মেয়ের পরিবার এতে রাজি ছিল না। শুক্রবার (৩১ আগস্ট) রাতে এই ঘটনার সালিশ করতে এসে স্থানীয় যুবক জাহিদুল ও তার সহযোগীরা সাইফুলকে মারধর করে। একপর্যায়ে সাইফুল দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর রাতে আর তিনি বাসায় ফিরে আসেনি।


শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে পল্লবীর বারনটেক এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের পাশে থেকে সাইফুল ইসলামের (১৮) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন জায়গাতে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সাইফুলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

মারধরের পর সাইফুলকে ভবনের ওপর থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিনা, অথবা সে নিজেই অভিমানে আত্মহত্যা করেছে কিনা, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। পুলিশ বলছে, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। সাইফুলকে অনেক মারধর করা হয়েছে। তার শরীরে মারধরের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সাইফুলের বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরে সড়কের দুই পাশে দুটি নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে। একটি তিনতলা এবং অন্যপাশে নয়তলা ভবন। এর কোনও একটি ভবন থেকে তিনি নিচে পড়েছেন— এটি নিশ্চিত। পুলিশের ধারণা, সাইফুল তিনতলা ভবন থেকেই নিচে পড়েছেন। এ ঘটনায় জাহিদের সহযোগী জলিলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুলকে মারধরের কথা স্বীকারও করেছে জলিল।

নিহত সাইফুলের বাড়ি শেরপুরে। তার বাবা জহিরুল ইসলাম পেশায় রিকশাচালক। তিন ভাই এবং এক বোনের মধ্যে সাইফুল সবার ছোট। সে লেখাপড়া করেননি। বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিকের কাজ করতো। ঢাকায় পল্লবীর বারনটেক এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতো সে।

স্থানীয়রা বলছেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভবন থেকে মাটিতে কিছু পড়ার শব্দ শুনেছেন তারা। কোন ভবন থেকে পড়েছে সেটি কেউ বলতে পারছেন না।

পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই ঘটনায় জলিল নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে মারধরের কথা স্বীকার করেছে।’

তবে সাইফুলকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলেছে কিনা, অথবা নিজেই পড়ে গিয়ে আত্মহত্যা করেছে কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাইফুল একটি মেয়েকে পছন্দ করতো। একই বাড়িতে পাশাপাশি রুমে বসবাস তাদের। সাইফুল ওই মেয়েটিকে বিয়েও করতে চেয়েছিল। কিন্তু মেয়ের পরিবার রাজি ছিল না। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন এসে সাইফুলকে মারধর করে এবং চলে যায়। এরপর সাইফুল দৌড়ে বাড়ি থেকে বাইরে চলে যায়। তখন তার মা ও বোন পিছু পিছু ছুটে যান, কিন্তু খুঁজে না পেয়ে তারা ফিরে আসেন। পরে বাড়ির কাছেই একটি নির্মাণাধীন ভবনের পাশে সাইফুলের লাশ পাওয়া যায়।’

নিহত সাইফুলের মা আমিনা বেগম বলেন, ‘রাত ৯টার দিকে জাহিদুলের সঙ্গে আমির হোসেন, জলিল মিয়াসহ তিন-চারজন এসে সাইফুলকে ডেকে বাড়ির উঠানে নিয়ে যায়। সাইফুল ঘর থেকে বের হওয়ার পর ওরা মারধর শুরু করে। সাইফুল ঘরের ভেতরে পালাতে গেলে তারাও ঘরে ঢুকে তাকে মারধর করে। এরপর সাইফুল দৌড়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। রাতেই আমরা খবর পাই সাইফুলের লাশ রাস্তায় পড়ে আছে।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাইফুলের মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে, নাকি তাকে মারধরের পর হত্যাকারীরা ওপর থেকে ফেলে দিয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।