কারাগারে বিশেষ আদালত

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অনাস্থা, বাদীপক্ষের দাবি আইন লঙ্ঘন হয়নি

নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার। এখানে দোতালার একটি কক্ষে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এই কারাগারের নিচতলার একটি কক্ষে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেকটি মামলা বিচারের জন্য বসানো হয়েছে এজলাস। (ছবি: ফোকাস বাংলা)

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতের প্রতি অনস্থা প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবীরা। বুধবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, সৈয়দ জয়নাল আবেদীন মেজবাহসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী বাংলা ট্রিবিউনকে এ কথা জানান।

সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘কারাগারে কখনও আদালতের বিচার কার্যক্রম চলতে পারে না। এটি সংবিধান বিরোধী কার্যক্রম। এটি স্পষ্ট সংবিধানের লঙ্ঘন। বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে, আদালত প্রকাশ্য স্থানে বসবে। সে মোতাবেক কারাগারে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা সংবিধান লঙ্ঘন। বর্তমানে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ওই কারাগারে আছে। এ কারাগারে কিভাবে আবার তারই অন্য আরেকটি মামলার বিচারের জন্য আদালত বসে? কিভাবে আদালতের কার্যক্রম চলে? এই আদালতের প্রতি আমাদের কোনও আস্থা নেই।’

তিনি বলেন, যেখানে মামলার বিবাদী বেগম খালেদা জিয়া নিজেই আদালতের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন সেখানে আমরা কিভাবে এ আদালতের বিচার কার্যক্রমের প্রতি আস্থা রাখি?

এদিকে এ বিষয়ে মামালার বাদীপক্ষ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, আইন মন্ত্রণালয় গতকাল গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কারাগারে বিশেষ আদালত স্থাপনের ব্যবস্থা করেছেন। ফৌজদারি আইনের ৯ (২) উপধারা অনুযায়ী সরকার চাইলে যে কোনও জায়গায় আদালতের বিচার কার্যক্রম চালাতে পারে। এতে আইনের লঙ্ঘন হয়নি।

কাজল আরও বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হচ্ছেন না বিধায় মামলার কার্যক্রম চালাতে পারছি না। আমরা আদালতে বলেছি, খালেদা জিয়া যেখানে আছেন, সেখানেই আদালত বসানো প্রয়োজন। পরে গতকাল মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কারাগারে বিশেষ আদালতের ব্যবস্থা করেন। এখানে আইনের কোনও লঙ্ঘন হয়নি।

বুধবার কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা না যাওয়ার বিষয়ে সানাউলাহ মিয়া বলেন, আদালত থেকে আমাদের কোনও নোটিশ বা কোনও অর্ডার শিট দেওয়া হয়নি। এমনকি কারাগারে আদালত বসবে এমন গেজেটও আমাদের দেওয়া হয়নি। আমরা কিভাবে বুঝবো আদালত ওইখানে বসবে?

খালেদা জিয়ার মামলার এজলাস বকশীবাজারের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালত থেকে সরিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়ায় আগের আদালতের বাইরেই অবস্থান নেন তার আইনজীবীরা। (ছবি: ফোকাস বাংলা)

তবে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ বলেন, উনার (খালেদা জিয়া) আইনজীবীদের  গেজেট দেওয়া হয়েছে। তারা তা জানা সত্ত্বেও আদালতে যাননি। তবে সরকার চাইলে যে কোনও স্থানে গেজেটের মাধ্যমে আদালতের বিচার কার্যক্রম চালাতে পারে। তাতে আইনের ব্যতয় ঘটে না।

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী সৈয়দ জয়নাল আবেদীন মেজবাহ বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে যে ভূমিকা দেখাচ্ছে তা নজিরবিহীন। সরকার এভাবে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নেবে তা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কাম্য নয়। কারাগারে বিচার ব্যবস্থা চালু হলে এটা নজির হয়ে থাকবে। এতে রাষ্ট্রের আইন অঙ্গনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

এর আগে রাজধানী বকশীবাজার আলীয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা এই দুর্নীতির মামলাটির বিচার কার্যক্রম হয়ে আসছিল। গতকাল আইন মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এই বিশেষ আদালতকে স্থানান্তর করে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে  বসার ব্যবস্থা করে। কারাগারের নিচতলার সাত নম্বর কক্ষে এই আদালতের এজলাস স্থাপিত হয়েছে। এতে বিচার কাজ পরিচালনা করছেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এখন থেকে এই কারাগারেই মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলবে। এই কারাগারেরই দোতলার একটি কক্ষে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে বন্দি আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ড দেন একই বিচারক।