‘সিডও সনদে সব ক্ষেত্রেই নারীর মানবাধিকারের কথা বলা হয়েছে’

মহিলা পরিষদের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ডিএমপি’র যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদনারীর প্রতি ধরনের  বৈষম্য বিলোপ সনদে (সিডও)ব্যক্তিজীবন এবং পাবলিক সেক্টর সব ক্ষেত্রেই নারীর মানবাধিকারের কথা বলা হয়েছে। তাই, সিডও’র পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারলে নারীর পূর্ণ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে,বলেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম।

৩ সেপ্টেম্বর ছিল আন্তর্জাতিক সিডও দিবস। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবনে ‘জনপরিসরে নারীর প্রতি সহিংসতা নারীর মানবাধিকার লংঘন: প্রেক্ষিত সিডও’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

আয়শা খানম বলেন, ‘জনপরিসরে নারীরা যে যৌন হয়রানির শিকার হয়, তার ঐতিহাসিক ভিত্তি হচ্ছে পিতৃতন্ত্র এবং আমাদের সংস্কৃতি। নারীর জীবনে নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিজীবনে নারীরা যে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে, তা সিডও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা দূর করতে পারি।’

তিনি নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে জেন্ডার সংবেদনশীল করার প্রতি জোর দেন।

অনুষ্ঠানে ডিএমপি’র যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা যদি রাস্তাগুলোকে হকারমুক্ত করতে পারতাম,পরিবহন ব্যবস্থা যদি ভালো করতে পারতাম,  রাস্তা-ঘাট যদি ভালো করতে পারতাম, তাহলে তা জনগণের জন্য ভালো হতো এবং নারীর প্রতি সহিংসতা অনেকাংশে কমতো। ঢাকা শহরে গণপরিবহনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। যেভাবে আমরা চলাফেরা করি তাতে নারীদের সমস্যা বেড়ে চলছে। এই ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করাটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শবনম আজিজ বলেন, ‘বাচনিকভাবেও নারীরা ক্রমাগত সহিংসতার শিকার হয়, কিন্তু তাকে সহিংসতা মনে করা হয় না। তাই প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন।’