‘র‌্যাবের জব্দ করা চাল-আটা ওএমএসের নয়, রেশনের’





সংবাদ সম্মেলনসম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁও সরকারি গুদাম থেকে র‌্যাবের জব্দ করা চাল-আটা ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) নয়, এগুলো বিভিন্ন বাহিনীর রেশনের জন্য নির্ধারিত খাদ্যপণ্য ছিল বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর ওএমএস ডিলার অ্যাসোসিয়েশন।

সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওএমএস ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব হারুন অর রশিদ বলেন, ‘কালোবাজারে বিক্রির জন্য গুদাম থেকে বের করার সময় জব্দ করা ওই খাদ্যপণ্যের সঙ্গে ডিলারদের জড়িয়ে তাদের সামাজিকভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে।’

গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও সরকারি খাদ্যগুদাম, কাকরাইল, কাওরানবাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ২১৫ টন চাল ও আটা জব্দ করে র‌্যাব।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম সে সময় বলেন, ‘স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের জন্য ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলে ১৪১টি ট্রাকে করে ওএমএসের এই চাল ও আটা বিক্রি করার কথা। তা না করে খাদ্যগুদামের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব কালোবাজারে বিক্রি করেছিলেন।’

এর প্রতিবাদ জানিয়ে ওএমএস ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের নেতা হারুন অর রশিদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ওএমএসে প্রত্যেক ডিলারের জন্য প্রতিদিনের বরাদ্দ থাকে একটন চাল ও দুই টন আটা। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টায় সিএসডি থেকে তুলে ওই পণ্য বিকাল ৫টার মধ্যে বিক্রি করতে হয়। অবিক্রীত মালামাল তাদারকি কর্মকর্তা ব্যালান্স হিসেবে দেখিয়ে ডিলারের জিম্মায় দিয়ে দেন। পরদিন ডিলার নিজের খরচে নির্দিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্রে তা বিক্রির জন্য নিয়ে যায়। অবিক্রীত মালামাল সিএসডিতে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’

সংগঠনের আহ্বায়ক আলমগীর সৈকত সংবাদ সম্মলনে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যেসব মালামাল জব্দ করা হয়েছে তা বিভিন্ন বাহিনীর রেশনের মালামাল। অথচ আমাদের পাচারকারী অপবাদ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, আমাদের তিনজন ডিলারের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।’
লিখিত বক্তব্যে হারুন অর রশিদ বলেন, ‘তেজগাঁও সিএসডি থেকে সশস্ত্রবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, টিআর, কাবিখা এবং জেলখানার রেশনের মালামালও তোলা হয়। রেশনের বস্তা ও ওএমএসের বস্তার গায়ে একই রকম লেখা থাকে।’
তিনি বলেন, ‘সারাদেশে আট শতাধিক ডিলার ওএমএসের মালামাল বিক্রির সঙ্গে জড়িত। মিথ্যা অপপ্রচারের কারণে তারা সমাজে হেয় হচ্ছেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’
প্রসঙ্গত, গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর চাল ও আটা জব্দ করা প্রসঙ্গে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে তেজগাঁও খাদ্যগুদামের আশপাশে র‌্যাবের সদস্যরা অবস্থান নেন। গুদাম থেকে ট্রাকগুলো বের হওয়ার পর সামনে থেকে তিনটি, তেজগাঁও রেলক্রসিং থেকে চারটি ও কাকরাইল থেকে একটি ট্রাক আটক করা হয়। এই আটটি ট্রাকে ১১৫ টন চাল-আটা মাওনা, চুয়াডাঙ্গা ও শ্রীমঙ্গলে নেওয়া হচ্ছিল বলে ধারণা করছি।