রাজধানীতে ছিনতাই ঠেকাতে আবারও কঠোর অবস্থানে পুলিশ

পুলিশ (ফাইল ফটো)রাজধানীতে ছিনতাই ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। গত দুই দিনে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোতে এসব অভিযান জোরদার করতে থানা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের একাধিক ইউনিট সক্রিয় হয়েছে। এলাকাভিত্তিক চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে এই অভিযান আরও কিছুদিন চলবে বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত বছরের শেষ দিকে নগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা ও নগরবাসীর মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে বিশেষ অভিযান শুরু করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। তখনকার অভিযানে তিন শতাধিক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। এই অভিযানের কারণে ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেকটা কমে এসেছিল বলে দাবি পুলিশের।

সম্প্রতি আবারও ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে পুলিশ বলছে, গত বছরে গ্রেফতার হওয়া ছিনতাইকারীরা অধিকাংশই জামিনে ছাড়া পেয়েছে। জামিন পাওয়ার পর তারা আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে আবারও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ধানমন্ডির দুটি স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে স্বপন নামে এক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। আটক করার সময় স্বপন পুলিশেল ওপর আক্রমণ করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি করে পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে আটক করে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৩৯২ ও ৪১২ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনার একদিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে আরও দুই যুবক। বিল্লার হোসেন কবির (৩৫) ও সালমান (২৮) নামের দুজন পেশাদার ছিনতাইকারী বলে দাবি শাহবাগ থানা পুলিশের।

ছিনতাইশাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান জানান, এই দুজনই মোটরসাইকেল নিয়ে ছিনতাই করে। রিকশার যাত্রী বা পথচারীদের ব্যাগসহ মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে মৎস্যভবন এলাকা থেকে একটি মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তাদের ধাওয়া করে পুলিশ। প্রথমে শিখা চিরন্তন ফটকের সামনে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ছিনতাইকারীকে আটকানোর চেষ্টা করা হলেও তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শিশু পার্কের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামানো হয়। এ সময় তারা পিস্তল ও চাপাতি নিয়ে পুলিশকে আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়। এতে দুই ছিনতাইকারীর পায়ে গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাদের আটক করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করতে মোহাম্মদুপুর ও কলেজগেট এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব-২। ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার উজ জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা গতকাল ও গত পরশু অভিযান চালিয়েছি। বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। আমাদের অভিযান চলছে।’

এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘গত বছর শুরু হওয়া অভিযানে যেসব ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছিলাম, তারা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে এসেছে। ছাড়া পাওয়ার পর তারা আবার একই অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার নিয়ে যেসব ছিনতাইকারী সক্রিয়, তারা বেশ ভয়ঙ্কর। গত বছর এসব টানা পার্টির খপ্পরে পড়ে একাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের ব্যাপারে শক্ত অবস্থানে রয়েছে ডিএমপি। এসব ছিনতাইকারীকে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। সহনশীল অবস্থায় না আসা পর্যন্ত অভিযান চলবে।’

এই কর্মকর্তা আরও জানান, এসব ছিনতাইকারী কয়েকদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় অনেক বেশি উৎপাত করছে। তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার অভিযান চলছে।

ডিএমপি রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ইনফরমেশনের ভিত্তিতে গতকাল রাতে (২৬ সেপ্টেম্বর) দুজনকে গ্রেফতার করেছি। আমাদের পুলিশ সদস্যরা ছিনতাই প্রতিরোধে তৎপর রয়েছে।’