অভিযোগের পর সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে ওই প্রতিষ্ঠানটির টয়লেট ঠিক করতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে প্রতিষ্ঠানের টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করতে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অধ্যক্ষের কাছে একটি অভিযোগপত্র পাঠান। একইসঙ্গে অভিযোগপত্রের কপি তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠান।
ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন— ‘ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল শাখা, আজিমপুর শাখা, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা শাখায় ব্যাপক সংখ্যক খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে আপনার (অধ্যক্ষ) একক ইচ্ছায়। যোগ্যতা যাচাই-বাছাই ছাড়াই দীর্ঘ মেয়াদের জন্য নিয়োগ দিয়েছেন, যা আপনি পারেন না, বিধিবিধান সমর্থন করে না। এর দায়ভার গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে আমার ওপর বর্তায়।’
অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘প্রতিষ্ঠানটির ১০ জন শাখা প্রধান ও কলেজের সমন্বয়কদের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এসব কার্যক্রমের জন্য স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হলো।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ একান্তই কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। এসব শিক্ষকের বেতন সরকার দেয় না, প্রতিষ্ঠানই দেয়। এ বিষয়ে আমাদের করণীয় থাকে না। তবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কেউ অনিয়ম করলে বিধি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিতে পারে।’
এদিকে, গভর্নিং বডির এই সদস্য প্রতিষ্ঠানটির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র তুলে ধরে আরেকটি অভিযোগ করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে। এ বিষয়ে ড. তাজুল তার অভিযোগে বলেন, ‘টয়লেটের অবস্থা এতটাই নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর যে, শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করেই বাসায় চলে যেতে বাধ্য হয়। শিক্ষার্থীদের নাকে রুমাল দিয়ে থাকতে হয়।’
এই অভিযোগের পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব আনেয়ারুল হক স্বাক্ষরিত আদেশে ভিকারুননিসায় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয়।
ওই আদেশে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শাখাগুলোতে টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসের দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার নম্বরে এসএমএস পাঠানো হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।