সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে নাজমুল হুদার মামলা

সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহারাজধানীর শাহবাগ থানায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে একটি মামলা করেছেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। মামলাটি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার বিকেলে বাংলা ট্রিবিউনকে ওসি আবুল হোসেন বলেন, ‘মামলাটি হওয়ার পর তা দুদকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এসকে সিনহার বিরুদ্ধে উৎকোচ (ঘুষ) গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ এনেছেন নাজমুল হুদা। মামলায় এস কে সিনহার গ্রামের বাড়ির ঠিকানা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের খাস কামরা, (বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ি, ওয়ার্ড নম্বর ২০ (নতুন), পুরাতন ৬৩, শাহবাগ থানা)। এতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২০ জুলাই নাজমুল হুদার কাছ থেকে তিন কোটি ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। দুই মামলায় একটিতে দুই কোটি এবং অন্যটিতে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। 

প্রসঙ্গত, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিএনপি সরকারের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন এবং ‘তৃণমূল বিএনপি’ নামে নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেন। এর আগে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি (বিএমপি) নামেও দল গড়েছিলেন তিনি।
আর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনও প্রধান বিচারপতি, যিনি পদত্যাগ করে এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। গত বছরের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। এর আগে এক মাসের ছুটি নিয়ে ওই বছরের ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন সিনহা। এরপর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। সম্প্রতি নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে তার নাম। বেরিয়ে আসে অন্তরালের কিছু খবরও।
সবশেষ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে এস কে সিনহা বিভিন্ন মহলে সমালোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন। গত ৩ জুলাই সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন সুপ্রিম কোর্ট। এরপর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় গত ১ আগস্ট। রায় প্রকাশের পর এ নিয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সংক্ষুব্ধ হয়। ওই পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে সরকার সমর্থিত আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও তোলেন। এই বিতর্কের মুখে ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যান এস কে সিনহা। সেখান থেকে তিনি গেছেন সিঙ্গাপুরে। তারপর রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে পদত্যাগপত্র পাঠান বাংলাদেশ দূতাবাসে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সিনহার ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেমোক্রেসি’ নামের একটি আত্মজীবনী সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এতে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি তার পদত্যাগের বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেছেন। এই বইয়ের কপিরাইট হচ্ছে ললিতমোহন-ধনাবাতি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের নামে।