ঘুষ নেওয়ায় সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আজিমপুর আঞ্চলিক অফিসের সুপারভাইজার (লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন) চন্দ্র শেখর রায়কে বুধবার (০৩ অক্টোবর) হাতেনাতে ধরেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া চলছে। দুদকের অভিযানে ঘুষ নেওয়ার ঘটনাটি বেরিয়ে আসে।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন- ১০৬) প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ আসে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম গঠন করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক সেলিনা আখতার মনি ও মো. জাকারিয়াসহ পুলিশের সমন্বিত সাত সদস্যের একটি টিম অভিযানে অংশ নেয়। টিমটি আজিমপুর কর অঞ্চল-৩’ এ ঝটিকা অভিযান চালায়। দুদক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে অফিসে থাকা দালালরা পালিয়ে যায়। কিন্তু একজন দালালের রেখে যাওয়া একটি ব্যাগ জব্দ করেন দুদক টিমের সদস্যরা। ব্যাগটি থেকে সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, ১৬টি ট্রেড লাইসেন্স বই ও ব্যাংক চালান ফর্ম পাওয়া যায়।
দুদক টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, রতন কুমার বাবু নামক একজন ব্যক্তির কাছ থেকে সুপারভাইজার (লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন) চন্দ্র শেখর রায় ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি বাবদ বেআইনিভাবে সাত হাজার টাকা নিয়েছেন। এ ঘটনার পর দুদক মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী আজিমপুর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। আজিমপুর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আনসারুজ্জামান (উপসচিব) -এর উপস্থিতিতে দুদক টিম দুর্নীতির প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপন করে। তিনি দুদক টিমকে আশ্বস্ত করেন, সিটি করপোরেশন দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে, সুপারভাইজার চন্দ্রশেখরকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযান পরিচালনা প্রসঙ্গে দুদক এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়কারী মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের দুর্নীতির কারণে শুধু মানুষের হয়রানিই হচ্ছে না, রাজস্ব আদায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুদক এসব ঘটনা প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং প্রয়োজনে সিটি করপোরেশনের সহায়তায় দুর্নীতিবাজদের তালিকা করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান কাজ শুরু করবে।’