ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নারীদের অপহরণ, ব্যাংক লুট ও কোটা পদ্ধতি নিয়ে ফেসবুক লাইভে দেওয়া শহিদুল আলমের বক্তব্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অধীনে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
রবিবার (৭ অক্টোবর) খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল জারির পর নিজ কার্যালয়ে মাহবুবে আলম এ মন্তব্য করেন।
শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে দায়ের মামলায় আদালতে শুনানির প্রসঙ্গ টেনে মাহবুবে আলম বলেন, “আমি আমার শুনানিতে বলেছি, যে লোক তার ভিডিওতে ‘নারীদের অপহরণ করা হচ্ছে, ব্যাংক লুট করা হচ্ছে, কোটা পদ্ধতির জন্য ক্ষমতাসীনদের সুবিধা হচ্ছে এবং সরকারকে উৎখাত করতে হবে’—এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া মানেই হলো আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারায় অধীনে অপরাধ করা। কারণ, এ ধরনের উক্তিতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয় এবং নানারকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। আদালত আমাদের উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে শহিদুল আলমকে জামিন না দিয়ে রুল জারি করেছেন।’
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘তিনি (শহিদুল আলম) ফেসবুকে যে ভিডিও করেছেন তা আল জাজিরায়ও প্রচার হয়েছে। এ সম্পর্কে কী বলা যাবে, এটা তার হয়ে অন্য কেউ তৈরি করেছে—এগুলো তিনি মৌখিকভাবে বক্তব্য দিয়েছেন এবং সম্প্রচার হয়েছে। তার বক্তব্য ৫৭ ধারার অধীনে পড়ে। তাই এই মামলায় আমরা রাষ্ট্রপক্ষে তার জামিনের বিরোধিতা করে শুনানি করি।’
এর আগে এদিনই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এক সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এক রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।