পণ্যপরিবহন ধর্মঘটের ডাক একটি সংগঠনের, বাকিদের প্রত্যাখ্যান





ধর্মঘট (ছবি: সংগৃহীত)

সড়ক পরিবহন আইনের সংশোধনসহ সাত দফা দাবি আদায়ে ঢাকা বিভাগে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করছে পণ্যপরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। রবিবার (৭ অক্টোবর) থেকে এ ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। আর দাবি মানা না হলে আগামী শনিবার (১৩ অক্টোবর) থেকে দেশব্যাপী লাগাতার ধর্মঘট পালনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তবে পণ্যপরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের এ ধর্মঘটকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে পরিবহন খাতের অন্য সংগঠনগুলো তা বয়কট করেছে।
শনিবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশ থেকে পণ্যপরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি চলবে না। আর দাবি মেনে নেওয়া হলে আগামীতে যে কোনও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারকে সহযোগিতা করা হবে।
পণ্যপরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দাবির মধ্যে রয়েছে—
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধন করা, সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০২ ধারায় মামলা গ্রহণ না করা, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল ও জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করা, টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সদস্য হাসমত আলীসহ মালিক ও শ্রমিকদের মুক্তি, পুলিশের হয়রানি বন্ধ করা, গাড়ির কাগজপত্র চেকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসংবলিত ট্রাক টার্মিনাল বা স্ট্যান্ড নির্মাণ করা, গাড়ির মডেল বাতিল করতে হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া, সহজ শর্তে ভারী যানবাহন চালককে ভারী লাইসেন্স দেওয়া ও এর আগপর্যন্ত হালকা বা মধ্যম লাইসেন্স দিয়ে ভারী যানবাহন চালানোর সুযোগ দেওয়া, সারাদেশে গাড়ির ওভারলোডিং বন্ধ করা এবং ফুটপাত, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রাক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করা।
শনিবার সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাদিকুর রহমান হিরু। তিনি বলেন, ‘দাবি মেনে নিতে সরকারকে আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ১৩ অক্টোবর থেকে সারাদেশে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘট চলবে।’
এদিকে এ ধর্মঘটকে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ। তাদের দাবি, বাংলাদেশ পণ্যপরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ হলো বিএনপি, জামায়াত ও বাসদের মদদপুষ্ট।
সংগঠনটি বলছে, তথাকথিত শ্রমিক ঐক্য পরিষদ অতীতের মতো ধর্মঘটের ডাক দিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণকে জিম্মি করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
রবিবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এক সংবাদ সম্মেলন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি মো. আজাহার আলী, সহ-সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ হানিফ খোকন এসব কথা বলেন।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনও ধর্মঘট আমাদের মধ্যে কার্যকর নেই। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এমন ধর্মঘট ডেকেছে তা আমাদের জানা নেই। আমাদের পরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলবে।’
ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির দফতর সম্পাদক সামদানী খন্দকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শ্রমিকদের একটি অংশ নির্বাচনের আগে এই ধর্মঘট আহ্বান করেছে। তারা একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। তবে তাদের সঙ্গে অন্য শ্রমিকরা নেই।’