অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মো. মহিবুল হক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান এবং পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশনস) উইং কমান্ডার চৌধুরী মো. জিয়াউল কবীরইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) ‘আইকাও কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) কানাডার মন্ট্রিলে আইকাও প্রেসিডেন্ট ড. বানার্ড আলিও ১৩তম এয়ার নেভিগেশন কনফারেন্সে এ অ্যাওয়ার্ড হস্তান্তর করেন বেবিচক কর্তৃপক্ষের কাছে। সেফটি ওভারসাইড প্রগ্রেসের ভিত্তিতে প্রতিবছর সদস্য দেশগুলোকে সার্টিফিকেট ও অ্যাওয়ার্ড দেয় আইকাও।
কানাডার মন্ট্রিলে ‘আইকাও কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট’ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মো. মহিবুল হক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান এবং পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশনস) উইং কমান্ডার চৌধুরী মো. জিয়াউল কবীর।
এ প্রসঙ্গে বেবিচকের পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশনস) উইং কমান্ডার চৌধুরী মো. জিয়াউল কবীর টেলিফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “‘আইকাও কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট’ স্বীকৃতি মূলত আইকাও সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তার ব্যবস্থার উন্নতির জন্য স্বীকৃতি। ২০১৭ সালের সেফটি স্ট্যান্ডার্ড কমপ্লায়েন্স (ইফিকটিভ ইমপ্লিমেন্টেশন)-এর দিক থেকে শতকরা ৭৫ দশমিক ৩৪ স্কোর অর্জন করেছে বাংলাদেশ। যেখানে সারাবিশ্বের বাস্তবায়নের গড় মান ৬০। এটি আইকাও’র নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়েও বেশি। এটি এভিয়েশন সেক্টরে একটি ঐতিহাসিক অর্জন এবং দেশের জন্য শ্রেষ্ঠ সাফল্য।’
IMG-20181009-WA0000চৌধুরী মো. জিয়াউল কবীর বলেন, ‘আমরা সব সময়ই এভিয়েশন খাতের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে কাজ করছি। আগের বছরের তুলনায় সেফটি স্ট্যান্ডার্ড কমপ্লায়েন্স ৫০ শতাংশের বেশি উন্নয়ন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। নিরাপত্তা বিষয়ে আমাদের চলমান অগ্রগতির এটি একটি স্বীকৃতি। ’
জানা গেছে, আইকাও থেকে গত ৬ এপ্রিল এ-সংক্রান্ত চিঠি পায় বেবিচক। বাংলাদেশ ছাড়াও ফিনল্যান্ড, বুর্কিনা ফাসো, কোস্টারিকা, ইকুয়েটরিয়াল গিনি, ইন্দোনেশিয়া, জর্দান, কুয়েত, নেপাল, পানামা, পর্তুগাল, রোমানিয়া ও তানজানিয়া এই অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছে। বিগত ৪৬ বছর সেফটি রেটিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৫০ শতাংশের নিচে ছিল।
আইকাও প্রেসিডেন্ট ড. বানার্ড আলিও বেবিচক কর্তৃপক্ষের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেনউল্লেখ্য, কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড শুধুমাত্র সেসব রাষ্ট্রকেই দেওয়া হয়েছে বিগত বৎসরে যারা আইকাও কর্তৃক নির্ধারিত মান বাস্তবায়নে এবং এর সুরক্ষায় উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ তার কার্যক্ষমতা ও দক্ষতা দিয়ে আইকাও কর্তৃক নির্ধরিত মান বাস্তবায়নে ৫০.০৮ শতাংশ থেকে ৭৬ শতাংশ মান অর্জন করেছে। যা ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে আইকাওর অডিটে স্বীকৃত পেয়েছে। এ মান বাংলাদেশের ফ্লাইট সেফটি সেক্টরে উন্নতির একটি সূচক। বর্তমানে কাতারের অর্জন ৬৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, থাইল্যান্ড ৪১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, মালয়েশিয়া ৭৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ, মালদ্বীপ ৬৬ দশমিক ২২ শতাংশ, ভারত ৫৭ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ভুটানের অর্জন ৩৯ দশমিক ১৪ শতাংশ।