ঢাকায় পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিকশা বিতরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি





৩৩৩৩

ঢাকা মহানগরীতে থ্রি-হুইলার লাইসেন্সধারীদের মধ্যে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিকশা বিতরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন।

বুধবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সংগঠনের সভাপতি সরদার মো. সোবহান।

সংগঠনটি বলছে, ২০০৭ সালে মহানগরীতে বাস করা থ্রি-হুইলার লাইসেন্সধারীদের মাঝে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিকশা বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এ নিয়ে একটি রিট হওয়ায় আদালত সরকারের এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করছেন না বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি সরদার মো. সোবহান বলেন, সরকার সিএনজি চালিত অটোরিকশার দৈনিক জমা ৯০০ টাকা নির্ধারণ করে মিটারে ভাড়ার হার নির্ধারণ করে। তবে মালিকরা তা অমান্য করে দুই শিফটে ১৪০০-১৭০০ টাকা হারে শ্রমিকদের কাছ থেকে জমা আদায় করছেন। ফলে চালকদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বে মিটারের ভাড়ায় চালাতে পারছেন না। এতে মালিকদের কোনও শাস্তি হয় না। অথচ চালক মিটারের অতিরিক্ত ২০ টাকা দাবি করলে জেল-জরিমানার শিকার হতে হয়।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীতে ভাড়ায় চালিত ১৩ হাজার সিএনজি অটোরিকশার পাশাপাশি ঢাকা জেলা থেকে নিবন্ধিত সাত হাজার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ থেকে নিবন্ধিত আনুমানিক ২০ হাজার সিএনজি অটোরিকশা অবৈধভাবে চলাচল করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। অবিলম্বে মিটারবিহীন অবৈধ অটোরিকশাগুলো বন্ধের জোর দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলন জানানো ১০ দফা দাবিগুলো হচ্ছে— অতিরিক্ত পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিকশার গেজেট প্রকাশ করে দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে অবশিষ্ট লাইসেন্স থাকা তিন হাজার ১৯৬ জন আবেদন করেছে। বর্তমানে লাইসেন্সধারীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। ফলে বাকি এক হাজার ৮০৪টি হালনাগাদ থ্রি-হুইলার লাইসেন্সধারীর মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। অতিরিক্ত দৈনিক জমা আদায়কারী মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। গ্যারেজে সন্ধ্যাকালীন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। অতিরিক্ত জমা আদায়কারী মালিকদের অটোরিকশা প্রতিস্থাপন বাতিল করে বৈধ থ্রি-হুইলার লাইসেন্সধারীদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে। গ্যাসের বর্ধিত মূল্য সমন্বয় করে এবং বাজার দরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মিটারের ভাড়ার হার ও দৈনিক জমা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। বিচারাধীন এক হাজার ৫৪৬টি ব্যতীত প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকশার ভাড়ায় চলা বন্ধ করতে হবে। গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা জেলায় নিবন্ধিত অটোরিকশা ঢাকা মহানগরীতে চলাচল বন্ধ এবং স্থায়ী ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ (খোকন), প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. ইনসুর আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মো. রেজাউল করিম, দফতর সম্পাদক মো. বজলুর রহমান প্রমুখ।