‘দেশের ১৮ শতাংশ শিশু-কিশোর মানসিক রোগে ভুগছে’

সেমিনারে বক্তারা (ছবি– প্রতিনিধি)

দেশের মোট শিশু-কিশোরদের ১৮ শতাংশই মানসিক রোগে ভুগছে। এ ছাড়া, দেশের ১৮ বছরের বেশি বয়সের ১৬ শতাংশ মানুষ মানসিক রোগে ভুগছে।’

বুধবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এ তথ্য জানান। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য’।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেন, ‘পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে তরুণেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের দেশে এখন যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা চলমান রয়েছে, এর পরিবর্তন দরকার।’

বিশেষ অতিথি স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আমাদের সচেতনতা তৈরি করতে হবে। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি সার্ভে করে লোক নিয়ে আসবো। কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে যেন মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকেরা অন্তত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে পারে তার ব্যবস্থা করবো। দেশের সদর হাসপাতালগুলোতে সাইকিয়াট্রিকের কোনও পদ নেই। এই পদ সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক প্রফেসর ডা. মো. হেদায়েতুল ইসলাম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্ট-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী ও নিউরো-ডেভেলপ মেন্টাল ডিজেবিলিটি প্রটেকশন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. গোলাম রব্বানী

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালক ও অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক আলম বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন।’

মূল প্রবন্ধে সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মোট সংখ্যা ২৩০ জনের কাছাকাছি। প্রতি ১ লাখ জনগোষ্ঠির জন্য সাইকিয়াট্রিস্ট রয়েছে মাত্র দশমিক শূন্য সাত তিন জন অর্থাৎ প্রায় ১৫ লাখ মানুষের জন্য গড়ে সাইকিয়াট্রিস্ট একজনেরও কম। প্রতি একলাখ মানুষের জন্য মানসিক রোগের শয্যা আছে দশমিক ৫৮টি।

সভায় বক্তারা মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।