আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘‘মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিষ্ঠান কেন আমাকে পুরস্কার দিচ্ছে? এটা আমি ধরতে পারিনি। অনেক আগে একবার আমি একটা পুরস্কার পেয়েছিলাম। ওই পুরস্কারের নাম ছিল ‘বেস্ট ড্রেস’। আমি পরি পায়জামা-পাঞ্জাবি। পুরস্কার পাচ্ছি বেস্ট ড্রেস। আরেকবার পুরস্কার পেয়েছিলাম ভালো পাঞ্জাবি পরার কারণে। আসলে ওই পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল দর্জির। সেটা ভুল করে মনে হয় আমাকে দিয়েছে!’’
মানুষের অসততার সমালোচনা করে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘আমরা ছেলেবেলা থেকে যাদের মহান ভেবেছি, অসাধারণ ভেবেছি, যাদের হিরো ভেবেছি, দেখা গেছে তাদের প্রত্যেকের ভেতর থেকে একেকটা চোরের মুখ বেরিয়ে এসেছে। যতদিন যাচ্ছে, ততই তা বেড়ে যাচ্ছে।’
মানবাধিকার বিষয়ে এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘মানবাধিকার একটা বড় জিনিস। মানবাধিকার মানে মানুষের দুঃখ। যেখানে অধিকারের চাইতে দুঃখের বিষয় বেশি থাকে, মানুষের দুঃখ দেখে যাদের ব্যথা লাগে, এই ব্যথা মনের মধ্যে সারাক্ষণ আলোড়ন করে, মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা জাগে, সেটাই মানবাধিকার। মানুষের জন্য কিছু করার ভেতর থেকে তাড়না থাকলেই সে ছুটে যায় মানুষের কাছে। ভালো লোক, হৃদয়বান লোক, অন্যের দুঃখে দুঃখ পাওয়ার বিষয় যার হৃদয়ে থাকে, সেই মানবাধিকারে জন্য কাজ করে।’
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে ‘এইচআরপিবি অ্যাওয়ার্ড-২০১৭’ এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক ডা. সামন্ত লাল সেনকে ‘এইচআরপিবি অ্যাওয়ার্ড-২০১৬’ দেওয়া হয়।
মানবাধিকার সংগঠনটির সভাপতি মনজিল মোরসেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভাকেট জয়নুল আবেদীন, চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ প্রমুখ।