রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে নির্যাতনের শিকার এক কিশোরী গৃহকর্মীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম হাওয়া আক্তার (১৪)। এ ঘটনায় গৃহকর্তা শরীফ চৌধুরী ও তার স্ত্রী নাইমাকে আটক করেছে পুলিশ। শরীফ চৌধুরী নিজেকে মানবাধিকারকর্মী বলে পরিচয় দিয়েছে।
বুধবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ২টার দিকে অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাওয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাওয়ার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার নগরচড় গ্রামে।
ঢামেক সূত্র জানায়, গৃহকর্মী হাওয়ার মাথা থেকে পা পর্যন্ত অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ শাখাওয়াত বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত চার মাস আগে তার মামাতো বোনের মাধ্যমে দক্ষিণ বনশ্রীর ১১ নম্বর রোডের ৪৩ নম্বর ভবনের ছয় তলায় শরীফ চৌধুরীর বাসায় ওই কিশোরীকে গৃহকর্মীর কাজে দেন।
কাজের অজুহাতে বিভিন্ন সময় ওই কিশোরীকে মারধর করা হতো। লোহার খুনতি দিয়ে পেটানো, গরম খুনতি দিয়ে ছেঁকা দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতো শরীফ ও নাইমা।
তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর হাওয়াকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করি।’
সৈয়দ শাখাওয়াত বলেন, ‘আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাড়ির কর্তা শরীফ ও তার স্ত্রী নাইমা ওই কিশোরীকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে। এসময় গৃহকর্তা শরীফ নিজেকে একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।’
এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।