বাংলাদেশের মেয়ে নাইমা। রিকশা চালানোর ইচ্ছে তার প্রবল। ওকে ঘিরেই মিতালি বোস লিখেছেন ‘রিকশা গার্ল’ উপন্যাসটি। ঢাকা লিট ফেস্টের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বাংলা একাডেমি লনে ‘নিউইয়র্ক লাইব্রেরি নির্বাচিত গত শতাব্দীর সেরা ১০০ শিশু সাহিত্য’ তালিকায় স্থান করে নেওয়া এই বইটি নিয়ে সুপ্রভা তাসনিমের সঙ্গে মনখোলা আড্ডায় মাতেন তিনি। সবার সামনে তুলে ধরেন তার লেখক জীবনের ইতিবৃত্ত, সংগ্রাম, প্রেরণার গল্প।
শিশু সাহিত্যিক হওয়ার পেছনে মিতালি বোসের প্রবল আগ্রহের কারণ ছিল একটি। তিনি বিশ্বাস করেন, শিশুদের হৃদয় গড়ে দেওয়া গেলে সামনের পৃথিবীটা আরও অনেক সুন্দর হয়ে উঠবে।
নিজের বয়স ১১ পেরোনোর আগেই ঘুরেছেন আটটি দেশে। নিজের বাড়ির অভাববোধ থেকে যেখানেই পঞ্চনেণ্দ্রিয়ের অস্তিত্ব অনুভব করেছেন, সে জায়গাকেই আপন মেনে নিয়েছেন। তাই তার লেখায় যেমন সুন্দরবন আছে, আছে মিয়ানমারও।
বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলতেই বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা গেল তাকে। বললেন, ‘নারীদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা প্রণয়নে বাংলাদেশে বিশ্বে রোল মডেল। নারী ও শিশু অধিকার ব্যাপারে যেকোনও পরিবর্তনে বাংলাদেশই সামনে থেকে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে।’
নতুন লেখকদের জন্য দিয়েছেন উপদেশও। মিতালি বোস বিশ্বাস করেন, গবেষণা, কল্পনা আর প্রকৃত অস্তিত্ব মিলিয়েই দাঁড়িয়ে যায় একটি ভালো সাহিত্য। যেকোনও ভালো সাহিত্য সংস্কৃতির জন্য সম্পদ। জাতিগতভাবে নিজেদের এসব সম্পদ সংরক্ষণের তাগিদ দেন তিনি। পুরো আড্ডার ফাঁকে শিশুদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, তাদের স্বাধীনতা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে যান এই হাস্যোজ্জ্বল নারী।