ঢাকা লিট ফেস্টের প্রথমদিনের দুপুরে কবি শামসুর রহমান সেমিনার হলে আয়োজিত হয় আলোচনা সভা ‘যে গল্পের পাঠক নেই।’ ছোট গল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয় সভায়। এতে অংশগ্রহণ করেন সাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবের, সাহিত্যিক আহমেদ মুস্তফা কামাল, সাহিত্যিক হামীম কামরুল হক ও সাহিত্যিক রাশিদা সুলতানা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছোটগল্পকার পারভেজ হোসাইন।
হামীম কামরুল হক বলেন, ‘যে গল্পের পাঠক নেই বলতে বুঝায় যে গল্প সবাই পড়তে পারবে না। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, লেখার নান্দনিকতার প্রথম শর্ত হচ্ছে লেখাটা যেন সহজেই পড়া যায়। আমিও এরকমই মনে করি।’
আহমেদ মুস্তফা কামাল বলেন, ‘একটা গান মানুষ হাজারবারও শোনে। কিন্তু একটা গল্প মানুষ এক থেকে দুইবারের বেশি পড়ে না। এমন গল্প বা উপন্যাস লেখকদের তৈরি করা উচিত, যেটা পাঠকদের একবার, দুইবার পড়া পরও তৃতীয়বার পড়ার স্বাদ জাগে।’
রাশিদা সুলতানা বলেন, ‘আমি একটা উপন্যাসের কথা বলি। সেটি হচ্ছে গড অব স্মলথিং। আমি এটি প্রথমবার পড়ে এর রস আস্বাদন করতে পারিনি। আমি এটি এরপর তিনবার পড়েছি। এটি আমি আরও বারবার পড়েছি ভালোলাগা ও শেখার জন্য। আমার মনে হয় বাংলাদেশে ভালো সাহিত্য হোক আর খারাপ সাহিত্য হোক, সেটা রিভিউ করা উচিত। না হলে পাঠক তৈরি করা সম্ভব না।’
মঈনুল আহমেদ সাবের বলেন, ‘সব পাঠকের শ্রেণি একরকম নয়। পাঠকের মনোজগত বিভিন্ন রকম। পাঠক বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। দ্বিতীয়ত, লেখাটি ছোটগল্প নাকি উপন্যাস বুঝাচ্ছি। পৃথিবীতে ছোটগল্প ও কবিতার পাঠক কম। মানুষ কাহিনী পড়তে ভালোবাসে। নিজেকে দিয়ে যদি পাঠককে বিচার করতে চান, আমি যদি আমার পাঠককে দিয়ে অন্যের পাঠকের বিচার করতে চাই তাহলে ভুল বিচার হবে। মানুষ কাহিনী পড়তে পছন্দ করে, সেটা আমাদের মেনে নিতে হবে।’