তার আগে বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে দুপুরের পর করণীয় নিয়ে পুলিশ সদর দফতরে দীর্ঘ বৈঠক করেন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। আইজিপির সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পুলিশ সদর দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও সকল ইউনিট প্রধান, সকল ডিআইজি ও কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সদর দফতরের বৈঠকে জানানো হয়-তফসিল ঘোষণার পর কাউকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ও হয়রানিমূলক মামলা না করার নির্দেশ দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশসহ দেশের সবগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। ওই বৈঠকে পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেন সিইসি। বৈঠকে পুলিশকে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেছেন, পুলিশকে এখনই কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। কারণ, পুলিশ প্রশাসনের কারণে যেন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পক্ষ থেকে ৭০ পুলিশ কর্মকর্তার তালিকা ইসিতে জমা দেওয়ার বিষয়টিও পুলিশ সদর দফতরের বৈঠকে উঠে আসে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কোনও দলের হয়ে কাজ করি না। সরকারের নির্দেশনা মেনেই কাজ করি। যেকোনও ধরনের নাশকতা প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা মাঠে কাজ করি। সেক্ষেত্রে আমাদের কাজ অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও ফৌজদারি মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পিছপা হবে না পুলিশ। এতে কোনও বাধাও দেখছেন না তারা।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, বৈধ অস্ত্র প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা, নির্বাচনের আগে পরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নির্বাচনি এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, সমন্বয়ের মাধ্যমে সবগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে একসঙ্গে কাজ করে সেসব বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়াও কর্মপরিকল্পনা তৈরিসহ বেশ কিছু দিক নির্দেশনা দেন সিইসি।
পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ শাখার এআইজি মো. সোহেল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে বৈঠক হয়েছিল, সেই বৈঠকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়নে কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করতেই শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের যাতে আবার ঢাকায় ডেকে আনতে না হয়, সেজন্য বৃহস্পতিবার বিকালেই এ বৈঠক করা হয়েছে।’
বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জানতে চাইলে এআইজি সোহেল রানা বলেন, ‘বৈঠকে মুলত আলোচনা হয়েছে, কোথায় কীভাবে ফোর্স মোতায়েন করা হবে, ফোর্সের ম্যানেজমেন্ট, ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজমেন্ট, লজিস্টিক ম্যানেজমেন্ট ও কমিউনিকেশন ম্যানেজমেন্টগুলো নিয়ে দিক-নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে দেশের ডিআইজি ও কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অবাধ-নিরপেক্ষ ও সুন্দর একটি নির্বাচনের জন্য পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশন যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, তা যথাযথভাবে করার জন্য পুলিশ সদর দফতরের বৈঠকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও মনোযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের অভিযান নিয়ে কথা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেটাকে আরও বেগবান করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।’